প্রতীক্ষার অবসান, গেহলটেই সিলমোহর রাহুলের, ডেপুটি শচীন পাইলট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল্পনার অবসান। শেষ পর্যন্ত নাম ঘোষণা করা হলো রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর। বর্ষীয়ান অশোক গেহলটের উপরেই ভরসা রাখল কংগ্রেস হাই কম্যান্ড। অন্যদিকে তরুণ নেতা শচীন পাইলটকে দেওয়া হলো উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ।

মঙ্গলবার রাজস্থানের বিধানসভার ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই উৎসব শুরু হয় রাজস্থান জুড়ে। তার মাঝেই প্রশ্ন ওঠে কে হতে চলেছেন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী। অশোক গেহলটের অনুগামীরা দাবি তোলেন, তাঁকেই করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী। তিনিই পারবেন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের সব মানুষকে এক করে নিয়ে চলতে।

আরও পড়ুন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা যখন ছোট, সফদরজঙের বাড়িতে তাদের ম্যাজিক দেখাতেন অশোক গেহলট

অন্যদিকে শচীন পাইলটের অনুগামীরা দাবি জানান, তরুণ রক্তের উপরেই ভরসা করা উচিত রাহুল গান্ধীর। কারণ তরুণ রক্তই রাজ্যের উন্নয়ন আনতে পারবে। নিজেদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেন অনুগামীরা। তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে সামান্য বাকবিতণ্ডাও হয় বলে খবর। যদিও এই খবরে শচীন পাইলট জানান, অনুগামীরা উৎসাহের চোটে এই কাজ করে ফেলেছেন। রাজ্যের কারও মধ্যে কোনও বিভেদ নেই।

কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা ঠিক করার জন্য অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কংগ্রেস অনুগামীদের কাছ থেকে মেসেজ করে মতামত চেয়েছিলেন রাহুল। তারপর দুই নেতা অশোক গেহলট ও শচীন পাইলটকে নিয়ে বৈঠকেও বসেন রাহুল। বৈঠকে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢড়া ও কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম। শেষ পর্যন্ত গেহলটের উপরেই আস্থা রাখেন রাহুল।

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অশোক গেহলট৷ পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে শচীন পাইলটও ধন্যবাদ জানান৷ দুই নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনী ইস্তেহার মাফিক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে৷ ঘোষণার সময় বেণুগোপালের এক পাশে ছিলেন অশোক গেহলট, অন্যদিকে ছিলেন শচীন পাইলট। বেণুগোপাল বলেন, গত দু’দিনের রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়ক, বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।

কিন্তু এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা অংশের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই অশোক গেহলটকে কুর্সিতে বসানোর জন্য শচীনকে রাজি করাতে পেরেছেন রাহুল গান্ধী৷ তবে প্রবীণ অশোক গেহলটের ব্যক্তি জনপ্রিয়তা প্রবল৷ সেটাও দরকার রাহুলের৷ রাজস্থান থেকে যত বেশি সম্ভব সাংসদ পাওয়া যায় ততই তাঁর পক্ষে সরকার গড়ার পথ পরিষ্কার হবে৷ সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নবীন নেতা হিসেবে শচীন পাইলটের ভূমিকা৷

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পরিস্থিতি এমন যে রাজপুতানার মাটিতে গেহলট ও পাইলট শিবিরের কোনও একপক্ষ বেঁকে বসলেই এই রাজ্যে কংগ্রেসের বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে৷ সে সব সামাল দিয়ে রাজ্য চালানোর জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দুই নেতাকে বসিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী৷

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More