ব্রিটেন ফেরত মা-মেয়ের শরীরে করোনার নতুন স্ট্রেন, আতঙ্কে বন্ধ হল বেঙ্গালুরুর আবাসন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরে সংক্রমণ নিয়েই আবাসনের ফ্ল্যাটে ঢুকেছিলেন ব্রিটেন ফেরত মহিলা ও তাঁর মেয়ে। পরে জানা যায় তাঁদের শরীরেও রয়েছে করোনার নতুন স্ট্রেন। ওই মহিলা যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন সকলকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে কোভিড টেস্ট করানো হচ্ছে। মিউট্যান্ট ভাইরাসের আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর ওই আবাসন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবাসনের কোনও বাসিন্দারই বাইরে বের হওয়া বারণ। বাইরে থেকে কাওকে ওই আবাসনে ঢুকতে দেওয়াও হবে না।

কোভিড আক্রান্ত ওই মহিলা ও তাঁর মেয়েকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ব্রিটেন ফেরত কর্নাটকের সাত জনের শরীরে নতুন ভইরাল স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর কে সুধাকর বলেছেন, ব্রিটেন ফেরত ওই মহিলা যে আবাসনে থাকতেন সেখানে তো বটেই, তার আশপাশের এলাকাতেও কনট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে। সংক্রমণের সামান্য উপসর্গ দেখা গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৫ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর অবধি ব্রিটেন থেকে ৩৩ হাজার মানুষ ফিরেছেন দেশে। তাঁদের মধ্যে ১১৪ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট করিয়ে প্রথমে ৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল যাঁদের শরীরে ব্রিটেন-স্ট্রেন (বি.১.১.৭) তথা করোনার নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেনের সন্ধান মিলেছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, সেই সংখ্যা এখন বেড়েছে। আরও ১৪ জনের শরীরে নতুন স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন ভর্তি রয়েছেন, বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্সে, দু’জন হায়দরাবাদের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজিতে, এক জন পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে, আটজন দিল্লির এনসিডিসিতে এবং একজন কল্যাণীর এনআইবিজিতে।

সংক্রামিতদের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের এক মহিলা দিল্লি থেকে ট্রেনে সফর করে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন বলে খবর ছড়িয়েছে। ওই মহিলা এখন আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে তাঁর সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, করোনার নতুন স্ট্রেনের সন্ধান মিলেছে লন্ডন ফেরত বছর দুয়েকের এক শিশুর শরীরেও। মেরঠের বাসিন্দা ওই শিশু ও তার পরিবারকে দিল্লির একটি আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে এখনও অবধি নতুন স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েনি। তবে সতর্কতা দরকার। ব্রিটেন থেকে গত দু’মাসে যাঁরাই দেশে ফিরেছেন তাঁদের চিহ্নিত করে কোভিড টেস্ট করানো হবে। কারণ ব্রিটেন-স্ট্রেন ৭০ শতাংশ দ্রুতগতিতে ছড়াতে পারে। করোনার অন্যান্য স্ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক। নতুন স্ট্রেনে এমনভাবে জিনের গঠন বিন্যাস বদলেছে যে আরটি-পিসিআর টেস্টেও অনেক সময় সংক্রমণ ধরা পড়ে না। ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তাই আক্রান্তদের থেকে নেওয়া নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More