কোভ্যাক্সিন ৮১% কার্যকরী, ব্রিটেন-স্ট্রেনের সংক্রমণও ঠেকাতে পারবে, দাবি ভারত বায়োটেকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভ্যাক্সিন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে চর্চার মধ্যেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে আনল ভারত বায়োটেক। সংস্থার দাবি, স্বেচ্ছাসেবকদের খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, টিকা ৮১ শতাংশ কার্যকরী। টিকার ডোজের কোনও খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকরী প্রমাণিত হবে এই টিকা।

জরুরি ভিত্তিতে সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড টিকা ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকাকে প্রায় একসঙ্গেই ছাড়পত্র দেওয়ার পরে ধুন্ধুমার বেঁধে গিয়েছিল দুই কোম্পানির মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছিল অক্সফোর্ডের টিকার যেমন তিন পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে আনা হয়েছে, বিজ্ঞানপত্রিকা গুলিতে টিকার ট্রায়ালের ফলাফল নিয়ে গবেষণাপত্র ছাপা হয়েছে, কোভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে কেন তেমনটা হয়নি। ভারত বায়োটেকের টিকা নিয়ে জনমানসে সংশয়ও তৈরি হয়েছিল। টিকা নিতে অস্বীকার করেছিলেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই।

যাবতীয় সংশয়ের মুখে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনে দ্য ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই টিকা মানুষের শরীরে একদম সুরক্ষিত। টিকার ডোজে কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টসের খবর নেই। টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল যে স্বেচ্ছাসেবকদের, তাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন কোভ্যাক্সিন টিকার ডোজ নিয়ে দেশের তৈরি ভ্যাকসিন নেওয়ার বার্তা দেন। টিকা যে সুরক্ষিত সে কথাও জানায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তারপর আজ বিকেলে টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে আনে ভারত বায়োটেক।

কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা দাবি করেছে, টিকা শুধু দুর্দান্ত কাজ করবে তাই নয়, করোনার নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণও ঠেকাতে পারবে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে নেওয়া ব্রিটেন স্ট্রেনের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, এই সুপার-স্প্রেডার স্ট্রেনের মিউটেশন রুখতে পারবে ভ্যাকসিনের ডোজ। অ্যাডাপটিভ ইমিউনিটি তৈরি হবে শরীরে।

ভারত বায়োটেকের টিকা হল ইনঅ্যাকটিভ ভ্যাকসিন (Inactive Vaccine)BBV152 নামক এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট করোনাভাইরাসের নিষ্ক্রিয় স্ট্রেন থেকে তৈরি। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive) করেছেন । এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল, তার সংক্রমণ ছড়ানো বা দেহকোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা নেই। এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর জন্য এর সঙ্গে অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউনোলজিক্যাল এজেন্ট) যোগ করা হয়েছে। এই অ্যাডজুভ্যান্টের কাজ হল টিকার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More