একুশের জুনেই আসবে কোভ্যাক্সিন, বড় ঘোষণা ভারত বায়োটেকের

করোনা টিকায় এখন দেশের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট, ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলা। অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল করছে সেরাম। ভারত বায়োটেকও চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা চলে আসবে আগামী বছর জুনের মধ্যেই। ঘোষণা করল ভারতের অন্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভারত বায়োটেক।

করোনা টিকায় এখন দেশের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট, ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলা। অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল করছে সেরাম। ভারত বায়োটেকও চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে। ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদনে নভেম্বরেই প্রায় ২৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের উপর টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করবে ভারত বায়োটেক।  ৩০টি শহরে হবে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল।

কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা জানিয়েছে, টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখেই উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। আগামী বছর জুন মাসের মধ্যেই টিকার পর্যাপ্ত ডোজ চলে আসবে দেশের বাজারে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। কোভ্যাক্সিন হল ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন অর্থাৎ ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বানানো হয়েছে। এই টিকার প্রথম দুই পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রিপোর্ট ভাল বলেই দাবি করেছে ভারত বায়োটেক। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থার ভাইরোলজিস্টরা। টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালের জন্য সরকারের সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটিতে (এসইসি)আবেদন করেছিল ভারত বায়োটেক। মানুষের শরীরে টিকার ট্রায়াল করতে হলে ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি ও দেশের ড্রাগ কন্ট্রোলের কাছে আবেনপত্র জমা দিতে হয়। টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখে তবেই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়া হয়। একইভাবে টিকার প্রতি পর্বের ট্রায়ালের আগেই তার আগের পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখিয়ে অনুমতি চাইতে হয়। চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালের আগে ভারত বায়োটেক যে আবেনপত্র জমা দিয়েছিল তাতে কিছু বদল এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, কেন্দ্রের গাইডলাইন মেনে তৃতীয় পর্বে অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন রোগীদের উপর টিকার ডোজের পরীক্ষা হবে। ইমিউনোজেনিসিটি ডেটা অর্থাৎ টিকার ডোজে নির্দিষ্ট দিনের ব্যবধানে কতটা রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়েছে তার তথ্য জমা করতে হবে।

করোনার টিকা কীভাবে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে, সে নিয়ে একের পর এক গবেষণা করে চলেছে দেশের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকায় এমন অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউন বুস্টার) ব্যবহার করা হচ্ছে যা টিকার কার্যকারিতা কয়েকগুণে বাড়িয়ে দেবে। টিকার ডোজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়বে। ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা জানিয়েছেন, নতুন উপাদান আনানো হচ্ছে বিদেশ থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভাইরোভ্যাক্স এলএলসি-র সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই মার্কিন ফার্মার লাইসেন্স পেয়েই তাদের তৈরি অ্যাডজুভ্যান্ট অ্যালহাইড্রক্সিকুইম-২ যোগ করা হবে করোনার টিকায়।

কৃষ্ণা এল্লা বলেছেন, এই ভ্যাকসিনের সঙ্গে যদি ভাইরোভ্যাক্সের তৈরি অ্যাডজুভ্যান্ট যোগ করা যায়, তাহলে এর ক্ষমতা কয়েকগুণে বেড়ে যাবে। মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন কার্যকরী থাকবে টিকার ডোজ। অ্যাডজুভ্যান্ট হল ফার্মাকোলজিক্যাল বা ইমিউনোলজিক্যাল উপাদান যা ভ্যাকসিনের ইমিউন রেসপন্স বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যাডজুভ্যান্ট ভাইরাল অ্যান্টিজেন বা প্রোটিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বদলে রক্তের বি-কোষ ও টি-লিম্ফোসাইট কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। বি-কোষ সক্রিয় হলে রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আর ঘাতক টি-কোষ জাগলে যে কোনও প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More