ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন সবার জন্য নয়, দুর্বল শরীর, অ্যালার্জি থাকলে নেওয়া যাবে না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক হচ্ছে। প্রথমে টিকার ট্রায়াল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, পরে টিকার সুরক্ষা নিয়ে সন্দেহ জেগেছিল। এসব কিছুর মাঝেও হায়দরাবাদের প্রথম সারির এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছিল, টিকার ২০০% স্বচ্ছ ট্রায়াল হয়েছে। টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নই ওঠে না। তবে এবার ভারত বায়োটেক বিস্তারিত একটি তথ্যপত্র বা ফ্যাক্ট-শিট সামনে এনে জানিয়েছে, এই টিকা সকলের শরীরে নাও সইতে পারে। কারা কারা টিকা নিতে পারবেন এবং কারা পারবেন না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

করোনার টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর তৃতীয় দিনে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজারকে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড টিকা ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ভাগ করেই দেওয়া হচ্ছে। যদিও কোভ্যাক্সিন টিকার ডোজ নিতে আপত্তি করেছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই। এখনও অবধি মোট ৫৮০ রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর মিলেছে। অসুস্থ হয়েছেন সাত জন, উত্তরপ্রদেশ ও কর্নাটকে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া টিকার ডোজের কারণে হয়নি। মৃত্যুর কারণও অন্য, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারত বায়োটেকের টিকা হল ইনঅ্যাকটিভ ভ্যাকসিন (Inactive Vaccine)BBV152 নামক এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট করোনাভাইরাসের নিষ্ক্রিয় স্ট্রেন থেকে তৈরি। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive) করেছেন । এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল, তার সংক্রমণ ছড়ানো বা দেহকোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা নেই। এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর জন্য এর সঙ্গে অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউনোলজিক্যাল এজেন্ট) যোগ করা হয়েছে। এই অ্যাডজুভ্যান্টের কাজ হল টিকার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা। তবে অনেক সময়েই এই অ্যাডজুভ্যান্টের কারণে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, বিশেষত যাদের অ্যালার্জির সংক্রমণ আছে তাদের ক্ষেত্রে সাইড এফেক্টস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ভারত বায়োটেক তাদের ফ্যাক্ট-শিটে তাই স্পষ্ট করে জানিয়েছে টিকা কারা নিতে পারবেন এবং কাদের শরীরে একেবারেই উপযোগী হবে না কোভ্যাক্সিন টিকা।

কোভ্যাক্সিন টিকা কাদের জন্য একদমই নয়—

১) দীর্ঘদিন ধরে কোনও রোগের ওষুধ খাচ্ছেন যাঁরা।

২) শরীরে কোনও জটিল বা ক্রনিক রোগ রয়েছে এবং তার চিকিৎসাও চলছে। সে জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় যাঁদের তাঁরা কোভ্যাক্সিন টিকা নিতে পারবেন না। কী ধরনের রোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৩) গায়ে জ্বর থাকলে, তাপমাত্রা ওঠানামা করলে কোভ্যাক্সিনের ডোজ একদমই নয়।

৪) অ্যালার্জির সংক্রমণ থাকলে একেবারেই এই টিকা নেওয়া যাবে না। যে কোনও ধরনের অ্যালার্জি থাকলে বা পরিবারে অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। অনেকেই অ্যালার্জির কারণে ওষুধ খেয়ে থাকেন, তাদের জন্য এই টিকা উপযোগী নয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫)ব্লিডিং ডিসঅর্ডার থাকলে টিকা নেওয়া যাবে না।

৬) গর্ভবতী মহিলা বা যাঁরা সন্তানকে বুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাঁরা একেবারেই টিকা নিতে পারবেন না।

৭) শরীর দুর্বল হলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কম হলে টিকা না নেওয়াই ভাল।

8) আগে অন্য কোনও কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে থাকলে এই টিকা নেওয়া যাবে না।

 

কারা নিতে পারবেন কোভ্যাক্সিন টিকা—

ওপরের কারণগুলো না থাকলে টিকা নেওয়া যেতে পারে। তবে ভ্যাকসিন মডিউলে যাঁদের নাম আছে তাঁরাই টিকার অগ্রাধিকার পাবেন। টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়ার আগে শারীরিক কোনও সমস্যা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হবে। অথবা হেলথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে তবেই টিকার ডোজ নেওয়া যাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More