গালওয়ান উপত্যকায় সারি সারি কালো ত্রিপল, ছাউনি তৈরি করে ফেলেছে চিনা সেনা, ধরা পড়ল উপগ্রহ চিত্রে

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসি থেকে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে সারি সারি কালো ত্রিপল খাটানো হয়েছে। সেখানে যানবাহনের চলাচল রয়েছে। মানুষের গতিবিধিও টের পাওয়া গেছে। উপগ্রহ চিত্র দেখে অনুমান, ওই এলাকায় পুরোদস্তর সেনা ক্যাম্প তৈরি করে ফেলেছে চিনা বাহিনী।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিছু হঠার প্রশ্ন নেই। বরং সামরিক কাঠামো বাড়িয়েই চলেছে চিন। কখনও দেখা গেছে দুই দেশের সীমান্তে গালওয়ান নদীর উপত্যকা বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটারের মধ্যে শতাধিক ট্রাক, বুলডোজার মোতায়েন করেছে চিনা বাহিনী, আবার কখনও দেখা গেছে প্যাঙ্গং লেক থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরত্বেই বিমানঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। প্ল্যানেট ল্যাবের প্রকাশ করা সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে আরও চাঞ্চল্যকর ছবি ধরা পড়েছে। দেখা গেছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসি থেকে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে সারি সারি কালো ত্রিপল খাটানো হয়েছে। সেখানে যানবাহনের চলাচল রয়েছে। মানুষের গতিবিধিও টের পাওয়া গেছে। উপগ্রহ চিত্র দেখে অনুমান, ওই এলাকায় পুরোদস্তর সেনা ক্যাম্প তৈরি করে ফেলেছে চিনা বাহিনী।

এলএসি-র যে পেট্রোলিং পয়েন্ট পিপি-১৪-এ চিন ও ভারতীয় সেনার সংঘর্ষ হয়েছিল, ওই এলাকায় ফের তৎপর হয়ে উঠেছে চিনা বাহিনী। উপগ্রহ চিত্র দেখেই অনুমান করা হচ্ছে, অন্তত ১৬টি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি হয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মির। গালওয়ান নদীর উপত্যকা বরাবর গড়ে উঠেছে ওই সেনা ছাউনিগুলি। গতকাল অর্থাৎ ২৫ জুন ও আজ ২৬ জুনের উপগ্রহ চিত্রেই ধরা পড়েছে এই ছবি। এর আগে গালওয়ান নদী উপত্যকার ওই এলাকায় এমন গতিবিধি দেখা যায়নি। প্ল্যানেট ল্যাব ২২ জুন ও ২৫ জুনের স্যাটেলাইট ইমেজ পাশাপাশি রেখে দেখিয়েছে, নদী উপত্যকা বরাবর কী কী নতুন পরিবর্তন দেখা গেছে। যে এলাকায় চারদিন আগেও কোনও মানুষের গতিবিধি ছিল না,সেখানে হঠাৎ করেই সারি সারি ছাউনি তৈরি হয়েছে। যানবাহনের চলাচলও রয়েছে।

আরও পড়ুন: লাদাখের কাছেই এয়ারবেস বানাচ্ছে চিন, উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেল, টারমাকে যুদ্ধ বিমান দাঁড়িয়ে

এই গলওয়ান উপত্যকায় বহুদিন থেকেই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চিন ও ভারতীয় সেনা। মাঝেমধ্যেই সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মে মাসের গোড়াতেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা, নাকু লা ও প্যাংগং লেকের উত্তরপ্রান্তে এলএসি পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার অবধি ঢুকে আসে চিনা ফৌজ। রীতিমতো তাঁবু খাটিয়ে ঘাঁটি তৈরি করে ফেলে। মুখোমুখি হাতাহাতিও হয়। দু’ পক্ষেই জখম হওয়ার ঘটনা ঘটে। গালওয়ানের যে জায়গায় সংঘাত হয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ওই জায়গা শিয়ক নদী পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পশ্চিম দিকের অংশটায় ভারতীয় বাহিনী টহল দেয়। চিন দাবি করে ওই এলাকা তাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। গালওয়ান উপত্যকার পাশাপাশি গোগরা হট স্প্রিং ও প্যাঙ্গং লেকের ফিঙ্গার এলাকাতেও চিনা সেনার তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।

আরও পড়ুন: পূর্ব লাদাখে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করে দিল ভারত, কৌশলগত পদক্ষেপ সেনা ও বায়ুসেনার

দারবুক-দৌলত বেগ ওল্ডি সড়কের ৬ কিলোমিটার দূরে গত ১৫ জুন পিপি-১৪ পেট্রোলিং পয়েন্টের যেখানে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি সংঘাত বেঁধেছিল ওই এলাকায় থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটারের মধ্যে চিনা সেনার অবস্থান ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। ৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে ওই এলাকাই ছিল শুনশান। ১৬ থেকে ২২ জুনের মধ্যে স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে নদী অববাহিকায় রীতিমতো কংক্রিটের কালভার্ট বানিয়ে ফেলেছে চিনা সেনা। তার জন্য নদীর গতিপথও রুদ্ধ হয়েছে। ট্রাক, বুলডোজার, ট্যাঙ্ক ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ মজুত করে সেখানেই ক্যাম্প তৈরি করে বসে গেছে চিনা বাহিনী।

নদী উপত্যকা বরাবর এলএসি থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যে নতুন করে কোনও কাঠামোও তৈরি হয়েছে বলে ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। অন্যদিকে প্যাঙ্গং লেকের মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে চিন। মনে করা হচ্ছে, টারম্যাকে সম্ভবত জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধ বিমানও রয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More