রণতরী থেকে শব্দের চেয়ে দ্রুত বেগে ছুটে গেল ব্রাহ্মস, সমুদ্রেও উৎক্ষেপণ সফল

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইেশন (ডিআরডিও) জানিয়েছে, ব্রাহ্মস মিসাইলের প্রাথমিক পাল্লা ২৯০ কিলোমিটার। তবে এর পাল্লা বাড়িয়ে ৪০০ কিলোমিটার অবধি করা যায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রণতরী থেকেও সফল উৎক্ষেপণ হল শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী সুপারসনিক ব্রাহ্মস মিসাইলের। আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ডেস্ট্রয়ার আইএনএস চেন্নাই থেকে ছোড়া হয় ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের চেয়ে দ্রুত বেগে ছুটে গিয়ে সেটি নিখুঁত নিশানায় আঘাত করে লক্ষ্যবস্তুকে।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইেশন (ডিআরডিও) জানিয়েছে, ব্রাহ্মস মিসাইলের প্রাথমিক পাল্লা ২৯০ কিলোমিটার। তবে এর পাল্লা বাড়িয়ে ৪০০ কিলোমিটার অবধি করা যায়। কিছুদিন আগেই ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জে সুপারসনির ব্রাহ্মসের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছিল। তবে এর চেয়েও বেশি ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রাহ্মসও প্রস্তুত আছে ডিআরডিও-র কাছে।

India successfully test-fires naval version of BrahMos missile - Jammu  Links News

ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের অনেকগুলি ভার্সন আছে। স্থলভাগের লঞ্চপ্যাড থেকে যেমন এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়, তেমনি আকাশপথে যুদ্ধবিমান ও সমুদ্রে ডুবোজাহাজ ও রণতরী থেকেও ছোড়া যায় এই মিসাইল। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকা ব্রাহ্মস পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। ল্যান্ড লঞ্চড, শিপ লঞ্চড ও এয়ার লঞ্চড ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে। ব্রাহ্মসের হাইপারসনিক ভার্সন ব্রাহ্মস-২ নিয়ে কাজ চলছে।

গত বছর ব্রাহ্মসের নতুন ভ্যারিয়ান্টের পাল্লা বাড়িয়ে ৫০০ কিলোমিটার করেছিল ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রাখার চেষ্টা করার হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মসের নতুন প্রজন্ম শুধু দুরন্ত গতিতে ছুটবেই না একেবারে লক্ষ্যবস্তুর নাকের ডগায় গিয়ে আঘাত করবে। লাদাখ সংঘাতের আবহে চিন-ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

তিন হাজার কিলোগ্রাম ওজনের ব্রাহ্মস লম্বায় প্রায় ২৮ ফুট। তবে এর এয়ার-লঞ্চড ভার্সনের ওজন আড়াই হাজার কিলোগ্রামের কাছাকাছি। ২০০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড রয়েছে। এটি নিক্ষেপ করার জন্য রয়েছে সলিড রকেট বুস্টার ইঞ্জিন (প্রথম দফায়) ও লিকুইড র‍্যামজেট ইঞ্জিন। ব্রাহ্মস একই সঙ্গে ক্রুজ মিসাইল, এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, ল্যান্ড অ্যাটাক ও সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল। প্রতিরক্ষার তিন স্তম্ভ স্থলবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে ব্রাহ্মস। এর গতি ঘণ্টায় ৩৭০০ কিলোমিটার। সেখানে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র টোমাহকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার। ভারতের ব্রাহ্মসের গতি এর চার গুণ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More