জঙ্গি তাণ্ডবে উত্তাল শ্রীনগর, গুলিতে ঝাঁঝরা দুই পুলিশকর্মী, সামনে এল সিসিটিভি ফুটেজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারে বারেই রক্তাক্ত হচ্ছে উপত্যকা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকর্মীদের বেছে বেছে নিশানা করছে জঙ্গিরা। শুক্রবার দুপুরে সন্ত্রাসের এমন ভয়াবহ ছবি সামনে এল।

প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল রাস্তায় পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এক জঙ্গি। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, খুব কাছ থেকে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে ওই সন্ত্রাসবাদী। জঙ্গির গুলিতে লুটিয়ে পড়ছেন দুই পুলিশকর্মী। আতঙ্কের পরিবেশ এলাকাজুড়ে। ভয়ে দৌড়োদৌড়ি করছেন স্থানীয় লোকজন।

শ্রীনগরের ভগত বারজুল্লা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে আজ বেলার দিকে। শ্রীনগর বিমানবন্দরে যেতে হলে ভগত বারজুল্লা রোড ধরেই যেতে হয়। ওই এলাকায় সবসময়েই পুলিশ মোতায়েন থাকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তার ধারে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। সে দিকে এগিয়ে গিয়ে আচমকাই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে এক আততায়ী। তার পরনে কালো পোশাক, মাথা ঢাকা। পুলিশকর্মীদেরই নিশানা করে কাছ থেকে গুলি চালাতে থাকে ওই আততায়ী। লুটিয়ে পড়েন দু’জন।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, সোহেল ও মহম্মদ ইউসুফ নামে দু’জন কনস্টেবল গুলিতে জখম হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।

গত কয়েকদিন ধরে জঙ্গি তাণ্ডবে অশান্ত শ্রীনগর। দুদিন আগেই শ্রীনগরের কৃষ্ণা ধাবায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এলোপাথাড়ি গুলিতে জখম হয়েছেন একজন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জখম ব্যক্তির নাম আকাশ মেহরা। তিনি কৃষ্ণা ধাবার মালিকের ছেলে। তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক। আজ আবার দুই পুলিশকর্মীর ওপরে হামলা হল। গোটা কাশ্মীর জুড়েই এখন নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমন্তে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তার মধ্যেই বারে বারে এমন নাশকতার ঘটনা ঘটায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, জম্মু-কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার মদতে গড়ে উঠেছে নয়া জঙ্গি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)।এই সংগঠনের কাজ হল উপত্যকায় ছড়িয়ে থেকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের বেছে বেছে নিশানা করা। দিনকয়েক আগে এই সংগঠনের অন্যতম মাথা জ়াহরুর আহমেদ রাথারকে পাকড়াও করেছিল পুলিশ। কাশ্মীরে বিজেপি যুব মোর্চার তিন নেতাকে গুলি করে খুনের ছক কষেছিল এই জ়াহরুরই। গত বছর উপত্যকায় ১১ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান, তাঁদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন বিজেপির। অগস্ট মাসে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সাজাদ আহমেদকে খুন করেছিল জঙ্গিরা। জুলাইয়ে গুলি করে মারা হয় বান্দিপোরা জেলা বিজেপির সভাপতি শেখ ওয়াসিম বারি এবং তাঁর ভাই ও বাবাকে।

গত কয়েক মাস ধরে জম্ম্য-কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। করোনা আবহেও জঙ্গি হামলা একটুও কমেনি। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে পাক সেনা। তার পাশাপাশি পাকিস্তানের সরাসরি মদতে সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ চলছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত কয়েক মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক অস্ত্র বোঝাই ড্রোন। বোঝাই গিয়েছে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের জন্যই এইসব অস্ত্র পাকিস্তান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এছাড়াও গত কয়েক মাসে একাধিক বার জঙ্গিরা নিশানা করেছে নিরাপত্তারক্ষীদের। শহিদ হয়েছেন অনেক সেনা জওয়ান। নিহত হয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কর্মীরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More