শ্রমিকদের থেকে ট্রেনের ভাড়া নেওয়ার কথা কখনও বলা হয়নি, সনিয়ার ঘোষণার পরই উলটপুরাণ কেন্দ্রের 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন্ রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু গত ১ মে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট বলা হয় শ্রমিকদের ট্রেনের ভাড়া দিতে হবে। চাইলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিও ভাড়া মেটাতে পারে।
তারপর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছিলেন বিরোধীরা। সোমবার কার্যত সবাইকে অবাক করে দিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ঘোষণা করেন ওই ভাড়া মেটাবে কংগ্রেস। আর তারপরই কার্যত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল এদিন বলেন, শ্রমিকদের থেকে ভাড়া নেওয়ার কথা কখনও বলেইনি কেন্দ্রীয় সরকার।
তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমে বলেছিল রাজ্যগুলিকে পরিবহণের ব্যবস্থা করতে। রাজ্যগুলি তখন বলে, স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র। তারপর ঠিক হয় শ্রমিকদের যাতায়াতের ভাড়ার ৮৫ শতাংশ রেল বহন করবে। বাকি ১৫ শতাংশ দেবে.সংশ্লিষ্ট রাজ্য।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকে একথাই বলে এসেছে।
অনেকের বক্তব্য, সনিয়ার সিদ্ধান্তের পরেই চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত বদল করছে কেন্দ্র। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে রেলকর্তারা বিবৃতি দিয়ে বলেন, যে রাজ্য থেকে শ্রমিকরা ট্রেনে উঠছেন সেখানকার প্রশাসনকে সমস্ত চেকআপ করানোর পর তাঁদের থেকে ভাড়া সংগ্রহ করে হাতে টিকিট ধরিয়ে দিতে হবে।
এমনকি ১ মে তারিখের নির্দেশিকায় রেল বলেছিল, সুপারফাস্টের চার্জ হিসেবে ৫০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ বাবদ ২৫ টাকা অর্থাৎ ৭৫ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে শ্রমিকদের।
যে শ্রমিকদের খাওয়ার পয়সা নেই, যে শ্রমিকরা গত দু’মাসের মজুরি পাননি তাঁদের থেকে ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্রীয় সরকারকের অমানবিকতা বলে তোপ দাগেন একাধিক বিরোধী নেতা। গতকাল উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, “এই সরকার ঋণখেলাপিদের ছাড় দেয় আর সব হারা শ্রমিকের থেকে ভাড়া আদায় করে। এর চেয়ে নির্মম আর কিচ্ছু হতে পারে না।”
এদিন কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, কেন্দ্রের সরকার মাত্র চার ঘন্টার নোটিসে দেশে লকডাউন করেছে। ফলে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার সুযোগটুকু পাননি। ‘৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এত খারাপ অবস্থা দেখা যায়নি। খাবার নেই, ওষুধ নেই, অর্থ নেই – লক্ষ লক্ষ লোক তাঁদের পরিবার ও ভালবাসার মানুষের কাছে পৌঁছতে খালি পেয়ে হেঁটে চলেছেন। এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক, মজুর আটকে রয়েছেন। যাঁদের কাছে বাড়ি ফেরার জন্য ন্যূনতম টাকা নেই। এরপরই বিবৃতিতে ভাড়া মেটানোর দায়িত্ব কংগ্রেস নিচ্ছে বলে জানান সনিয়া।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সনিয়ার এই ঘোষণা ছিল সাম্প্রতিককালের মধ্যে ঐতিহাসিক। তাঁদের বক্তব্য, খানিকটা চাপে পরেই এখন উল্টো সুর গাইছে কেন্দ্র।
You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More