লাদাখে সেতু, রাস্তা বানাচ্ছে চিন, কারাকোরাম পাসের কাছে তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট ঘর

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, কারাকোরাম পাসের ৩০ কিলোমিটার পূর্বে সমর লুঙ্গপায় ছোট ছোট ঘর তুলছে চিনা বাহিনী। রেচিন লা-র দক্ষিণে সাজুন পাহাড়ের কাছেও এমন নির্মাণকাজ দেখা গিয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা সরানো ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা পিছনোরই কথা হয়েছিল। চুসুল সেক্টরে শেষ বৈঠকে দুই দেশের সেনা কম্যান্ডাররা এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল সেগুরে বালি। লাল ফৌজ পিছু হটার চেষ্টা তো করছেই না, উল্টে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে নতুন উদ্যোমে সামরিক কাঠামো বানাতে লেগে পড়েছে। শীতের সময় পাহাড়ি এলাকায় পাকাপাকিভাবে ঘাঁটি গেড়ে বসে পড়ার জন্য ছোট ছোট ঘরের মতো নির্মাণকাজও চলছে বলে জানা গিয়েছে।

শীতের লাদাখে ভারতীয় সেনার জন্য গরম তাঁবু, বিশেষ পোশাক ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। আমেরিকা বিশেষ শীতবস্ত্র পাঠিয়েছে যা মাইনাস তাপমাত্রাতেও শরীর গরম রাখবে। শীতের কয়েকমাসের জন্য পর্যাপ্ত রেশনও পাঠানো হয়েছে সীমান্তে। ভারতীয় সেনার প্রস্তুতি আর সমরসজ্জা দেখে চিনও এখনও লাদাখের পাহাড়ে টিকে থাকার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। প্যাঙ্গং লেকের কাছে তাদের কয়েকটা তাঁবু ও হ্রদের জলে স্পিডবোট আগেই দেখা গিয়েছিল। এবার নতুন করে আরও ক্যাম্প আর রাস্তা তৈরি করতে লেগেছে চিনা বাহিনী।

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, কারাকোরাম পাসের ৩০ কিলোমিটার পূর্বে সমর লুঙ্গপায় ছোট ছোট ঘর তুলছে চিনা বাহিনী। রেচিন লা-র দক্ষিণে সাজুন পাহাড়ের কাছেও এমন নির্মাণকাজ দেখা গিয়েছে। এই সাজুন পাহাড়ের কাছে আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। তাই মনে করা হচ্ছে, ভবিষ্যতের কথা ভেবেই চিনা ফৌজ তাদের প্রস্তুতি সেরে রাখছে।

Shenxianwan: The 'toughest' China post that guards Karakoram Pass - News Analysis News

আরও একটা অবাক করা ব্যাপার দেখা গেছে দৌলত বেগ ওল্ডির কাছে। এই অঞ্চলে এমনতিও চিনা বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আকসাই চিনে তাদের সামরিক পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে, মিসাইল সিস্টেম বসছে, হেলিপ্যাড তৈরি হচ্ছে। তাই আকসাই চিন লাগোয়া দৌলত বেগ ওল্ডির কাছেও সেনা বাড়িয়েছে চিন। দেখা গেছে, দৌলত বেগের ৭০ কিলোমিটার পূর্বে কুইজিল জিলগার কাছে ৬টি নতুন বাড়ির মতো নির্মাণকাজ হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেখানে অস্ত্রশস্ত্র সমেত থাকারই পরিকল্পনা করেছে লাল ফৌজ। প্রায় ১৩০ মিটার এলাকাজুড়ে এমন নির্মাণকাজ দেখা গিয়েছে।

ভারতীয় সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় ৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে চিনের বাহিনী। অধিকৃত আকসাই চিন থেকে গোগরা-হট স্প্রিং অবধি বিস্তৃত এই সামরিক কাঠামো। আয়তনে প্রায় চারটি ফুটবলের মাঠের সমান। এখানে আর্মি ভেহিকল মোতায়েন করা হচ্ছে। মিসাইল সিস্টেম ও রাইফেল ডিভিশন তৈরি করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। তিব্বতের শিকুয়ানহিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নির্মাণকার্য চালাচ্ছে চিনের, এমনটাও দেখা গেছে উপগ্রহ চিত্রে। তৈরি হচ্ছে হেলিপ্যাড। অন্তত পাঁচ হাজার সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েনের মতো পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে ওই এলাকায়। এর আগে ওই এলাকায় এমন পরিকাঠামো দেখা যায়নি। নতুন করেই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তিব্বতের হোটান এয়ারবেসে চিনের যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে দেখা গিয়েছে। ভারতীয় সেনা সূত্র জানিয়েছে, আকসাই চিনের ভেতরে ৯২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সেনা ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে গালওয়ান রেঞ্জে নজর রাখছে চিনের সেনা।

শীতের আগেই চিনের সেনাদের ঠেকাতে সীমান্তে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। প্যাঙ্গং রেঞ্জ, গোগরা, দেপসাং সমতলভূমিতে টি-৯০ ও টি-৭২ যুদ্ধট্যাঙ্কের পাশাপাশি একাধিক মিসাইল সিস্টেমও প্রস্তুত রেখেছে ভারতের বাহিনী। সীমান্তে বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্সও যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তৈরি। ভারতের রণকৌশল দেখে চিন তাই নতুন করে তাদের সেনা বিন্যাস শুরু করেছে। ১৫৯৭ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করার কাজ চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More