উত্তর ও দক্ষিণ প্যাঙ্গং থেকে সরে যাচ্ছে লাল সেনা, দাবি চিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবমবার চুসুল সীমান্তে চিন-ভারত সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরেও বিশেষ কিছু লাভ হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরানোর তথা ডিসএনগেজমেন্টের কোনও লক্ষণই দেখা যায়নি লাল ফৌজের মধ্যে। তার মধ্যেই আবার খবর এসেছিল, লাদাখ সীমান্তে সেনার সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিন, আরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, বুধবার চিনের একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ ভাগ থেকে সেনা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে চিন। সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যুদ্ধট্যাঙ্কও।

চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র উ কিয়ানের বক্তব্য তুলে ধরে চিনের মিডিয়া জানিয়েছে, ভারতীয় সেনার সঙ্গেই ডিসএনগেজমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু করেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। মূলত উত্তর ও দক্ষিণ প্যাঙ্গং থেকেই সেনা সরানো হচ্ছে। সামরিক অস্ত্রশস্ত্রও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ক’দিন আগেই বলেছিলেন, দুই দেশের শান্তি আলোচনার মাঝেই লাগাতার বিশ্বাসঘাতকতা করে যাচ্ছে চিন। এবার সীমান্ত থেকে সেনা না সরালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারত শান্তি চায়, তাই চুপ আছে। কিন্তু একে দুর্বলতা ভেবে নিলে মুশকিল। সীমান্ত আগ্রাসনের চেষ্টা হলে তার প্রতিক্রিয়া ভয়ানক হতে পারে।

সূত্র বলছে, উত্তর প্যাঙ্গং থেকে নাকি কিছুটা পিছু হটেছে চিনের বাহিনী। হ্রদের উত্তর তীরের পরে দক্ষিণ ভাগের পাহাড়ি এলাকা থেকেও সেনা সরানো হবে। চিনের বাহিনীর মোকাবিলায় প্যাঙ্গং সংলগ্ন এলাকায় ভারত যে বিশাল সেনা মোতায়েন করেছিল তার সংখ্যাও কমানো হবে।

তবে প্যাঙ্গংয়ের পাহাড়ি রেঞ্জ থেকে সেনা সরাতে বলে চিন নতুন করে ফাঁদ পাততে পারে বলেও মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। চিন সেনা সরানো শুরু করলে, পিছিয়ে আসতে হবে ভারতীয় বাহিনীকেও। সেই সুযোগে ফের আগ্রাসনের চেষ্টা করতে পারে লাল সেনা, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শেষবারের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে প্যাঙ্গং থেকে ডিসএনগেজমেন্টের প্রস্তাবই দিয়েছিলেন চিনের সেনা কম্যান্ডাররা। তাদের প্রস্তাব ছিল, সিরিজাপ রেঞ্জ থেকে সেনা সরিয়ে নিতে তারা রাজি। ভারতকেও তাদের সেনা সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই সিরিজাপ রেঞ্জ হল আকসাই চিনের দক্ষিণের একটি পাহাড়ি উপত্যকা। প্যাঙ্গং লেকের উত্তরভাগে পড়ে। ওই এলাকা চিন দখল করে রেখেছে। যদিও ভারত দাবি সিরিজাপ রেঞ্জ ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই পড়ে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পরে ওই রেঞ্জে তিনটি পোস্ট তৈরি করে টহলদারি শুরু করে ভারতের বাহিনী।

জুন মাসে গালওয়ানের সংঘাতের পরে উত্তর প্যাঙ্গং লেক সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলিতেও ঢুকে পড়ে চিনের লাল ফৌজ। তাদের ঠেকাতে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ পাওয়া পার্বত্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণ প্যাঙ্গং লেকের একাধিক উঁচু পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ভারত। ফলে কালা পাহাড় সহ বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাহাড় চূড়া হাতছাড়া হয়ে যায় চিনের। প্যাঙ্গং লেকের পাহাড়ি খাঁজ ফিঙ্গার পয়েন্ট ১ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ অবধি এলাকার দখল নিতে এখন মরিয়া চিন। আর সেটা কিছুতেই হতে দেবে না ভারত। এই মুহূর্তে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এর কাছে মুখোমুখি অস্ত্র তাক করে বসে আছে দুই দেশের বাহিনী। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ এর কাছে নতুন করে সামরিক কাঠামো বানাচ্ছে চিনের সেনা। ফলে ওই এলাকায় টহল দিতে পারছে না ভারতীয় বাহিনী।

কিছুদিন আগেই ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর মিলেছিল, ৩৪৮৮ কিলোমিটার জুড়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসি বরাবর সেনার সংখ্যা আরও বাড়চ্ছে চিন। সেনার বিন্যাসও বদলাচ্ছে তারা। সেই সঙ্গেই আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করার কাজ চলছে। ভারতের বাহিনী খবর দিয়েছে, নতুন করে রাইফেল ডিভিশন মোতায়েন করছে চিনের লাল সেনা। হাউইৎজার কামান সাজাতে দেখা গিয়েছে তাদের। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা যায় এমন মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে চিনের সেনা। অন্তত সাড়ে তিনশো যুদ্ধ ট্যাঙ্ক তারা নিয়ে এসেছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর। টাইপ-৯৯ এর মতো আধুনিক যুদ্ধ ট্যাঙ্কও রয়েছে তাদের সঙ্গে। তবে ভারতীয় সেনারা জানাচ্ছে, চিনের স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে খুব ভালভাবেই পরিচিত ভারত। তাই প্রতি মূহূর্তেই সতর্ক নজর রাখা হবে চিনের বাহিনীর ওপরে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More