সন্দেহজনক চিনা জাহাজ ঘোরাফেরা করছে ভারত মহাসাগরে, নৌবাহিনীর নজরদার বিমানে ধরা পড়ল ছবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলদস্যু দমনের নামে কি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে চিন? ডিসেম্বরেও সন্দেহজনক চিনা গুপ্তচর জাহাজকে এলাকাছাড়া করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। ফের ভারত মহাসাগরে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি কয়েকটি চিনা জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সেই আশঙ্কাই তীব্রতর হয়েছে।

নৌবাহিনী সূত্রে খবর, ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই ঘোরাফেরা করছে জাহাজগুলি। সেগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধজাহাজ। ভারতীয় নৌসেনার নজরদার বিমানে ধরা পড়েছে এই জাহাজগুলির ছবি।

ভারত মহাসাগরে উত্তরোত্তর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চিন। আচমকা ঢুকে পড়ছে চিনা জাহাজ। সীমানা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়ছে  রণতরীও। গোপনে ঢুকে পড়ছে চিনের সাবমেরিন। নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং বলেছেন, নানাবিধ উদ্দেশে এই জাহাজগুলি ভারত মহাসাগরে ঘোরাফেরা করছে। কখনও সমুদ্র সংক্রান্ত গবেষণার জন্য। কখনও বা সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান অথবা উত্তোলনের জন্য। কখনও জলদস্যু দমন অভিযানে ঢুকে পড়ছে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকায়।

জলদস্যু দমন বা ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে কি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে চিন? সম্প্রতি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে যে তথ্যপ্রমাণ এসেছে তাতে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। নৌসেনা অ্যাডমিরাল করমবীর বলেছেন, ‘‘২০০৮ সাল থেকে ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চিন। সীমানা লঙ্ঘন করে যখন তখন ঢুকে পড়ছে যুদ্ধজাহাজও। আমরা নজর রাখছি।’’ তিনি জানান, ‘শি ইয়ান ১’ নামে জাহাজটি সীমা লঙ্ঘন করেন ঢুকে পড়লে সেটিকে তাড়িয়ে দেয় ভারতের নৌবাহিনী।

ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের। এর আগে বহুবার ওই বিশেষ এলাকা ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে চিনের একাধিক রণতরীকে। এইসব রণতরীগুলির সঙ্গে বেশিরভাগ সময়েই থাকে ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক। কৌশলে নজর এড়িয়ে হানা দেয় চিনা সাবমেরিনও।

কূটনৈতিক মহলের একটি অংশের অবশ্য ব্যাখ্যা, ভূ-রাজনৈতিক ভাবে ও ব্যবসায়িক দিক থেকে ভারত মহাসাগরের ওই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ২০০৮ সাল থেকেই সেখানে প্রভাব বিস্তার করার প্রচেষ্টা জারি রেখেছে বেজিং।

গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে আটটিরও বেশি ডুবোজাহাজ পাঠিয়েছে চিন। যার মধ্যে পরমাণু শক্তিচালিত আক্রমণকারী ডুবোজাহাজও ছিল। কলম্বো এবং করাচি হয়ে ভারতীয় জলসীমার কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল ডুবোজাহাজগুলিকে। ভারতের পি-৮১ অ্যান্টি সাবমেরিন নজরদার বিমানের মাধ্যমে ধরা পড়েছিল সেগুলি। এমনও হয়েছে এক একটি ডুবোজাহাজ প্রায় একমাস করে কাটিয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র আরও বলছে, প্রতিবার রণতরী বা সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় না চিন। বরং নজর এড়াতে পর্যায়ক্রমে একবার সাধারণ জাহাজ আর একবার সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় তারা। ২০১৭ সালে ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর ১২টি বহর দেখা গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী লুয়াং জাহাজ, ডুবোজাহাজে সরঞ্জাম সরবরহকারী জাহাজ চোংমিংদও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More