চিন্তা বাড়াচ্ছে লাদাখের ফিঙ্গার পয়েন্ট-৪, এখনও প্যাঙ্গং সো দখল করে আছে চিনের লাল ফৌজ

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্যাঙ্গং সো রেঞ্জের উত্তরে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর মাঝামাঝি এলাকা থেকে চিনের সেনা কিছুটা পিছিয়েছে ঠিক, তবে এলাকা পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি। কয়েকটি তাঁবু, কিছু বুলডোজার ও সামরিক সরঞ্জাম সরানো হয়েছে মাত্র।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিছিয়েছে কিন্তু অতি সামান্য। প্যাঙ্গং লেকের ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এলাকায় এখনও চিনের লাল ফৌজের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ অবধি এলাকায় নিজেদের দখল পুরোপুরি ছাড়েনি চিনা বাহিনী। কাজেউ তল্পিতল্পা গুটিয়ে চিন যে ফেরার পথ ধরেছে এমনটা একেবারেই বলা যায় না। ভারতীয় সেনা সূত্র জানিয়েছে এমনটাই।

পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর তিন এলাকা থেকে সেনাবাহিনী সরানোর কথা ছিল চিনের। তার মধ্যে গালওয়ান উপত্যকা, গোগরা হট স্প্রিং ও প্যাঙ্গক সো থেকে সেনাবাহিনী কয়েক কদম পিছিয়েছে এমনটা ধরা পড়েছিল সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে। প্ল্যানেট ল্যাবের তোলা উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছিল ২৮ জুন গালওয়ান উপত্যকায় যে সেনা ছাউনিগুলি ছিল, ৬ জুলাই সেই জায়গা পুরোপুরি ফাঁকা। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, গোগরা হট স্প্রিং এলাকা থেকেও প্রায় দেড় কিলোমিটারের মতো পিছিয়েছে চিনা ফৌজ। কিন্তু প্যাঙ্গং সো লেক?

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্যাঙ্গং সো রেঞ্জের উত্তরে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর মাঝামাঝি এলাকা থেকে চিনের সেনা কিছুটা পিছিয়েছে ঠিক, তবে এলাকা পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি। কয়েকটি তাঁবু, কিছু বুলডোজার ও সামরিক সরঞ্জাম সরানো হয়েছে মাত্র। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪-এ এখনও চিনা সেনা ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। এমনকি সেনা সূত্র এও জানাচ্ছে, গালওয়ান নদী উপত্যকা বরাবর চিনা বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িও দাঁড়িয়ে রয়েছে এখনও। নদী উপত্যকায় তারা কংক্রিটের কালভার্ট তৈরি করেছিল। সেই পরিকাঠামো এখনও রয়েছে।

পেট্রোলিং পয়েন্ট কী?  কোন কোন এলাকা এখনও বিতর্কিত?

গত ১৫ জুন পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৫ এর কাছে দুই দেশের বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। এই পেট্রোলিং পয়েন্ট হল চিহ্নিত এলাকা যেখানে সেনাবাহিনী টহল দিতে পারে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় বরাবর এমন কয়েকটি পেট্রোলিং পয়েন্টকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলওসি-র মতো এই পেট্রোলিং পয়েন্টগুলো কোনও সেনা ঘাঁটি নয়। শুধুমাত্র চিহ্নিত করে দেওয়া কিছু এলাকা। যেখানে সংযম বজায় রেখে দুই দেশের  বাহিনীই টহল দিতে পারে। এখন কোন পয়েন্টে কোন দেশের বাহিনী কতটা এলাকাজুড়ে টহল দেবে সেই নিয়ে একটা ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলতেই থাকে। ভারতীয় বাহিনী যে এলাকায় টহল দেয় সেখানে সিগারেটের প্যাকেট বা খাবারের টিন ফেলে রাখে। যার অর্থ এটা চিনের সেনাদের এটা বোঝানো যে ওই এলাকা ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পেট্রোলিং পয়েন্ট বা পিপি ১৫ রয়েছে গালওয়ান উপত্যকা বরাবর। এই এলাকার দখল নিয়েই দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। অন্যদিকে, পিপি ১০, পিপি ১১, পিপি ১২ ও পিপি ১৩ পয়েন্ট রয়েছে উত্তর লাদাখে, দেপসাং সমতলভূমি বরাবর। রাকি নালা থেকে জীবন নালা পর্যন্ত, যেটা এলএসি-র কাছাকাছি পড়ে না। এই পয়েন্টগুলো ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে গালওয়ানের সংঘর্ষের পর থেকে এই দেপসাং ভূমিতেও চিন নিজেদের বাহিনী ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে দাবি।

গত ৩০ জুন দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরে ঠিক হয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার চারটি এলাকা থেকেই নিজেদের বাহিনী সরাবে দুই দেশ। মাঝে তৈরি হবে একটা নিরপেক্ষ এলাকা বা বাফার জ়োন। এই চার এলাকা হল—গোগরা হট স্প্রিং, দেপসাং সমতলভূমি, গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাঙ্গং সো লেক

এই চার এলাকার মধ্যে পিপি ১০ থেকে পিপি ১৩ রয়েছে দেপসাং সেক্টরে, পিপি ১৪ রয়েছে গালওয়ানে, পিপি ১৫ রয়েছে হট স্প্রিং এলাকায় যেখান থেকেই সীমান্ত সংঘাতের শুরু এবং পিপি ১৭পিপি ১৭এ রয়েছে গোগরায়। এর মধ্যে চিন ও ভারত দুই দেশের সেনাই গালওয়ানের পিপি ১৪, গোগরার পিপি ১৭, হট স্প্রিং এলাকার পিপি ১৫ থেকে এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটারের মতো পিছিয়ে গেছে বলে খবর। মাঝে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে বাফার জ়োন।

কিন্তু ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এই অতি সামান্য পিছিয়ে বাফার জ়োন তৈরি করে আখেরে কোনও লাভ নেই। কারণ চিনা বাহিনী এই পেট্রোলিং পয়েন্ট গুলো পেরিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার ঢুকে এসেছিল ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায়। এখনও গালওয়ান ও হট স্প্রিংয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মির তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

এবার যে এলাকাগুলো নিয়ে চিন্তা বাড়ছে সেটা হল ফিঙ্গার এলাকা বা ফিঙ্গার পয়েন্ট। এই ফিঙ্গার এলাকা রয়েছে প্যাঙ্গং রেঞ্জে। পাহাড়ি খাঁজ যেখানে উভয় দেশের বাহিনীই টহল দেয়। ভারত ও চিন দুই দেশই ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ অবধি এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করে। সীমান্ত সংঘাতের পরে চিনা সেনা ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এর ভেতরে ঢুকে এসে নিজেদের সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করতে শুরু করে। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর মাঝে মান্দারিন ভাষায় চিনের নাম ও মানচিত্র বানিয়ে আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে। ভারতীয় বাহিনী জানাচ্ছে, এখনও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ পুরোপুরি দখল করে বসে আছে চিনের লাল ফৌজ। পাহাড়ি এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বহরও পুরোপুরি সরায়নি তারা। আগামী দিনে প্যাঙ্গং সো রেঞ্জের এই ফিঙ্কার পয়েন্টগুলোকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More