সামান্য জ্ঞান ফিরলেও এখনও সংকটজনক তরুণ গগৈ, রয়েছেন লাইফ সাপোর্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈয়ের। শনিবার থেকে সম্পূর্ণ অচেতন ছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার থেকে সামান্য জ্ঞান ফিরেছে তাঁর। মাঝে মাঝে চোখ খুলছেন তিনি। কিন্তু এখনও তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাই তাঁকে লাইফ সাপোর্টেই রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডাক্তার অভিজিৎ শর্মা জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে তাঁর সামান্য জ্ঞান ফিরলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটজনক। তাঁর রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক। মুহূর্তের জন্য চোখের পাতা ও হাত নড়ছে। এটা ভাল সংকেত। কিন্তু মুত্রত্যাগের পরিমাণ খুবই কম। সব মিলিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে।”

ডাক্তারবাবু আরও বলেন, “তাঁর চিকিৎসা নিয়ে সব সিদ্ধান্ত দিল্লির এইমসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেই নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা আমরা তাঁর শরীরে দিকে নজর রাখব। আমরা আশা করছি দ্রুত এই অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে উঠবেন উনি।”

এদিকে অসমের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি টুইট করে বলেন, “অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ দাদার শারীরিক অবস্থা নিয়ে খুব চিন্তায় রয়েছি। সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। আমি গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক দলের যোগাযোগে রয়েছি। ওনারা ক্রমাগত আমাকে সব খবর দিচ্ছেন।”

শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারপরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আজ বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে তাঁর। তাই চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ইনটিউবেশন ভেন্টিলেশন শুরু করেছেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে অচেতন রয়েছেন। তাঁর একাধিক অঙ্গ বিকল হয়েছে।”

হিমন্ত আরও বলেন, “তাঁর অঙ্গগুলিকে ফের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। অন্য পদ্ধতিতেও চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা ডায়ালিসিস করানোর চেষ্টা করছেন। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। আমরা সব রকমের চেষ্টা করছি।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমসের চিকিৎসকদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলেছেন গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। সব রকমের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই অবস্থায় অন্য কোথাও তাঁকে স্থানান্তরিত করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। পরিবারকে প্রতি মুহূর্তে খবর জানানো হচ্ছে। তাঁদের অনুমতি নিয়েই সব কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

গত ২৫ অগস্ট করোনা আক্রান্ত হন অসমের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। পরের দিনই গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৮৬ বছর বয়সী এই কংগ্রেস নেতাকে। সেখানে কোভিড ও কোভিড পরবর্তী উপসর্গের চিকিৎসা হওয়ার পরে গত ২৫ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। দু’মাস পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। তাই ২ নভেম্বর তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে সেখানেই রয়েছেন তিনি। অবশ্য শনিবারের তুলনায় তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More