দেশের তৈরি কোভ্যাক্সিন করোনার ‘ডবল মিউট্যান্ট’ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, আইসিএমআরের গবেষণায় দাবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকা করোনার যে কোনও সুপার-স্প্রেডার স্ট্রেন থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এমনটাই দাবি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)। গবেষকদের বক্তব্য, কোভ্যাক্সিন টিকায় এমন উপাদান আছে যা করোনাভাইরাসের ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেনও নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় পাওয়া মিউট্যান্ট প্রজাতি নিয়ে গবেষণা করে এমনটাই জানা গিয়েছে।

দেশের অন্তত দশ রাজ্যে কোভিডের ছোঁয়াচে ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছে। ডবল মিউট্যান্ট মানে হল ভাইরাসের জিনের গঠন বিন্যাস দু’বার বদলে গিয়ে যে নতুন প্রজাতি তৈরি হয়েছে। এই নয়া প্রজাতি আরও বেশি সংক্রামক। আইসিএমআরের উদ্যোগে পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (এনআইভি)আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় পাওয়ায় ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের বিন্যাস বের করা হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, এই ছোঁয়াচে ভাইরাসের জিনের বিন্যাস জানতে না পারলে তার বদলটা কীভাবে হচ্ছে সেটা জানা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাই মানুষজনের মধ্যে নতুন প্রজাতি কী হারে ছড়াচ্ছে সেটা জানার জন্যই জিনোম সিকুয়েন্স করা হচ্ছে। আর এই পরীক্ষা করার সময়েই ভাইরাসের বদল যাওয়া প্রজাতিকে কী উপায় নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যায় তার উপায় বের করছেন বিজ্ঞানীরা।

আইসিএমআর জানিয়েছে, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন (BBV152) করোনাভাইরাসের নিষ্ক্রিয় স্ট্রেন থেকে তৈরি। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive) করেছেন । এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল, তার সংক্রমণ ছড়ানো বা দেহকোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা নেই। এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর জন্য এর সঙ্গে অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউনোলজিক্যাল এজেন্ট) যোগ করা হয়েছে। এই অ্যাডজুভ্যান্টের কাজ হল টিকার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা। সেই কারণে কোভ্যাক্সিনের এমন গুণ আছে যা করোনার নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণও রুখতে পারে।

গবেষকদের বলছেন, ল্যাবরেটরিতে করোনার ব্রিটেন স্ট্রেন (বি.১.১.৭), ব্রাজিলীয় স্ট্রেন (বি.১.১.২৮), দক্ষিণ আফ্রিকার (বি.১.৩৫১) স্ট্রেনের বিন্যাস বের করে ফেলা গেছে। এই ভিনদেশি স্ট্রেনগুলি একে অপরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে জিনের বিন্যাস বদলে যে ডবল ভ্যারিয়ান্ট বি.১.৬১৭ তৈরি করেছে তারও বিন্যাস বের করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে কোভ্যাক্সিন এই প্রজাতিগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More