৪ শতাংশের নিচেই সংক্রমণের হার, দৈনিক আক্রান্ত ৪৫ হাজারের মধ্যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলল চিন্তা নেই

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলছেন, এই মুহূর্তে প্রতিদিনের সংক্রমণ ৪৫ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যেই রয়েছে। আজকের হিসেবে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজারের কিছু বেশি। তবে সংক্রমণের কার্ভ ফের কমবে বলেই আশা জাগিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে যেভাবে করোনা কার্ভ বেড়ে চলেছে তাতে দেশজুড়েই আতঙ্ক চেপে বসেছে। এই বুঝি সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ ধাক্কা দেয়। দৈনিক আক্রান্ত গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়েছে। যেখানে ৯০ হাজার থেকে এক ধাক্কায় ৩০ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল প্রতিদিনের সংক্রমণ, সেখানে ফের ৪০ হাজারের উপরে উঠে যাওয়ায় চিন্তা বেড়েছিল বইকি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রক ভরসা দিয়েছে, বেশি উদ্বেগের কারণ নেই। দিল্লিতে আচমকাই সংক্রমণের বড়সড় ঝাপটা এসে যাওয়ায়, জাতীয় গড়ে তার প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু হিসেব করে দেখা গেছে, দৈনিক সংক্রমণের হার চার শতাংশের নিচেই আছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলছেন, এই মুহূর্তে প্রতিদিনের সংক্রমণ ৪৫ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যেই রয়েছে। আজকের হিসেবে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজারের কিছু বেশি। তবে সংক্রমণের কার্ভ ফের কমবে বলেই আশা জাগিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আসলে চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা অ্যাকটিভ রোগীদের সংখ্যা। অক্টোবর থেকেই করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল দেশে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, অ্যাকটিভ কেস কমে যাওয়া ভাল ইঙ্গিত। যার মানে হল, ট্রান্সমিশন রেট তথা একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার কমে যাওয়া। কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা কমা মানেই দেশে সংক্রমণের হারও ধীরে ধীরে কমবে, এমনটাই আশা করা হয়েছিল। তবে এক সপ্তাহ ধরেই দেখা গেছে, করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ফের বেড়েছে। আজকের হিসেবে সাড়ে চার লাখ। অ্যাকটিভ কেসের হার ৪.৮ শতাংশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছে, দিল্লিতে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলা যাবে কিছুদিনের মধ্যেই।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যদিও বলেছেন, কোভিড অ্যাকটিভ কেস যেভাবে বেড়েছিল রাজধানীতে তা এখন অনেকটাই নেমে গেছে। সংক্রমণের হারও কমছে। কোভিড টেস্ট আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গত কাল সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সব রাজ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন করে কনটেইনমেন্ট জ়োন তৈরি করায় জোর দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে ছোট ছোট এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায়। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে যা কার্যকর করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন বলছে, সুস্থতার হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। ৮৬ লাখ করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। তবে কোভিড রিকভারি রেট সামান্য বেড়ে ৯৩.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। দৈনিক মৃত্যু পাঁচশোর মধ্যেই আছে।

১৩ কোটির বেশি কোভিড টেস্ট হয়েছে দেশে। গতকালই প্রায় ১১ লাখ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তবে কোভিড টেস্ট সব রাজ্যে যথাযথ হচ্ছে না বলেই রিপোর্ট সামনে এসেছে। সূত্র বলছে, দেশে এখন আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট কম করেও ৪০ শতাংশ। কয়েকটি রাজ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টের কারণেই করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা যায়নি। দিল্লি যার মধ্যে একটি। বিহার তেলঙ্গানা, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশেও আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কম। বিহারে তো পিসিআর টেস্ট কমতে কমতে ১৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, তেলঙ্গানায় ১৭%, গুজরাটে ২২%, পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা বেশি ৫৫%। এখনও অবধি মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানে পিসিআর টেস্ট বেশি করা হচ্ছে প্রায় ১০০ শতাংশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More