দিল্লি হিংসা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৫৩

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির হিংসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৩। গত সপ্তাহে টানা পাঁচদিন ধরে তাণ্ডব চলেছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশে। সিএএ বিরোধী এবং সমর্থকদের বারবার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজধানী শহর। রবিবার ১ মার্চ সন্ধে থেকেই অশান্তি শুরু হয় দিল্লিতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ বাড়তে থাকে অশান্তির আঁচ। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দিল্লি হিংসার বলি হয়েছেন ৫৩ জন।

গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার সেখানে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এই হাসপাতালে মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৮। আজ ছ’জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৪। এছাড়াও আজ আরএমএল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এলএনজেপি হাসপাতালে ৩ জনের এবং জগ প্রবেশ চন্দ্র হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত দিল্লি হিংসায় মোট মৃতের সংখ্যা ৫৩। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লাল এবং গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মা।

গত সপ্তাহের ম্যারাথন সংঘর্ষের জেরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লির শিব বিহার, জাফরাবাদ এবং চাঁদবাগ এলাকা। এই আচঁদবাগ এলাকাতেই আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেনের বাড়ির কাছে একটি নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার ক্ষতবিক্ষত দেহ। গোয়েন্দা অফিসারকে খুনে নাম জড়িয়েছিল আপ নেতা তাহির হুসেনের। পার্টি থেকে সাসপেন্ডও হন তিনি। দীর্ঘদিন ফেরার থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করেছেন তাহির হুসেন।

অন্যদিকে দিল্লি হামলার সময়ে ভাইরাল হয়েছিল আর এক যুবকের ছবি। সীলমপুরের বাসিন্দা শাহরুখ এখন পরিচিত নাম। লাল টি-শার্ট পরে জাফরাবাদের রাস্তায় বন্দুক উঁচিয়ে নিরস্ত্র পুলিশকর্মের উপর আস্ফালন দেখিয়েছিল এই যুবক। তার গ্রেফতারি নিয়েও হয়েছিল নানা বিভ্রান্তি। তবে অবশেষে এই শাহরুখকেও হেফাজতে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। টানা পঁচদিনের তাণ্ডবে অসংখ্য দোকানপাট, বাড়িঘর, স্কুল পুড়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া জানিয়েছেন, ৭৯টি বাড়ি এবং ৩২৭টি দোকান পুড়েছে এই সংঘর্ষের জেরে। অন্যদিকে পরিসংখ্যান বলছে, ৬৫৪টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার এবং আটক মিলিয়ে মোট সংখ্যা ১৮২০। অস্ত্র আইনে রুজু হয়েছে চারটি মামলা। আহত হয়েছেন ৩০০-র বেশি মানুষ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More