উত্তরপ্রদেশে মৃত বেড়ে ১৬, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জারি ১৪৪ ধারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থামছে না উত্তরপ্রদেশে। গত তিনদিনে যোগীর রাজ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের গুলিতেই সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি তারা গুলি চালায়নি। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের ২১টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। গোটা রাজ্যে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শনিবার বারাণসীতে একটি আট বছরের বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে পদপিষ্ট হয় মহম্মদ সাগির। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনার পর গত কয়েক দিনে উত্তরপ্রদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। সাহারানপুর, দেওবাঁদ, সামলি, মুজফফরনগর, মিরাট, গাজিয়াবাদ, হাপুর, সম্ভল, আলিগড়, বাহারাইচ, ফিরোজাবাদ, কানপুর, ভাদোহী ও গোরক্ষপুরে সবথেকে বেশি অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে

এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি ও পি সিংহ বলেছেন, “সব ক’টি মৃত্যুই হয়েছে গুলি-বিনিময়ের মধ্যে পড়ে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সব স্পষ্ট হবে। পুলিশের গুলিতে কেউ মারা গেলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হত।” এমনকি এই বিক্ষোভে মহিলা ও শিশুদের হাতিয়ার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ডিজির অভিযোগ, “লখনউয়ে আমি মেয়েদের বিক্ষোভ ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলাম। বারাণসীতে বাচ্চারা ছিল। যারা নাগরিকত্ব আইনের মানেই জানে না, তারাও হাতে পাথর তুলে নিয়েছে।” আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) প্রবীণ কুমার জানিয়েছেন, সারা রাজ্যে বিক্ষোভের এলাকা থেকে ৪০৫টি কার্তুজের খোল মিলেছে। ২৬৩ জন আহত পুলিশের মধ্যে ৫৭ জনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরাও অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ করছে।

আরও পড়ুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: উত্তরপ্রদেশে গুলি চালিয়েছে পুলিশ, প্রমাণ মিলল ভিডিওয়

এদিন ফের বিক্ষোভ দেখা যায় কানপুর ও রামপুরে। কানপুরের এতিমখানা ফাঁড়িতে আগুন লাগায় বিক্ষোভকারীরা। এতে বেশ কিছু পুলিশকর্মী আহত হয়েছে বলে খবর। গ্রেফতার করা হয়েছে সমাজবাদী পার্টির নেতা অমিতাভ বাজপেয়ী ও কমলেশ তিওয়ারিকে। রামপুরে বনধ চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্য থেকে ৭০৫ জনকে গ্রেফতার করেছে যোগীর পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আরও ১০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও গোটা রাজ্যে আটকের সংখ্যা প্রায় ৪৫০০।

ইতিমধ্যেই ২১টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি জেলার ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। গোটা রাজ্যে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে রাজ্যে। ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু করে দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More