করোনা যাদের মা-বাবাকে কেড়েছে, সেই অনাথ শিশুদের দায়িত্ব নিচ্ছেন কেজরিওয়াল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনায় বিপর্যস্ত দুঃস্থ পরিবার, বিশেষত অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়ালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কোভিডে বাবা-মাকে হারিয়েছে, এমন নাবালক সন্তানেরা এবার থেকে মাসে আড়াই হাজার টাকা পেনশন পাবে। ২৫ বছর পর্যন্ত তাদের হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে সরকারি তরফে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনাথ ছেলেমেয়েদের স্কুলে লেখাপড়ার দায়িত্বও এবার থেকে সরকার বহন করবে।

এর পাশাপাশি তিনি বলেন, দারিদ্র‍্যসীমার নীচে থাকা রাজধানীর প্রায় ৭২ লক্ষ মানুষকে চলতি মাসে ১০ কেজি রেশন বিনামূল্যে দেওয়া হবে। যার অর্ধেক অংশ আপ সরকার এবং বাকি অর্ধাংশ আসবে কেন্দ্রীয় স্কিম থেকে। রেশন দেওয়ার সময় এবার আর্থিক রোজগারের বিষয়টি সরিয়ে রাখতে চাইছে দিল্লি সরকার।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কেজরিওয়াল বলেন, ‘করোনায় অনেক শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। তারা যেন নিজেদের নিঃসঙ্গ কিংবা অসহায় মনে না করে। আমি সবসময় তাদের পাশে আছি।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমরা প্রতি মাসে ভর্তুকি হারে ৫ কেজি রেশন দিয়ে থাকি। কিন্তু এ মাসে দিল্লির সমস্ত দরিদ্র নাগরিক তা বিনামূল্যে পাবেন। এটা সত্যি যে, সবার রেশন কার্ড নেই। আর এই পরিস্থিতিতে এত কম সময়ের মধ্যে কার্ড বানানোও সম্ভব নয়। তাই যাঁরা গরীব, অন্তত মুখে এই কথাটুকু বললেই, বিনা পয়সায় রেশন নিয়ে যাবেন।’

চলতি বছরে প্রথম হলেও কেজরিওয়াল সরকার এর আগেও এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল। গত বছর করোনার প্রথম ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় ২২ মার্চ একইভাবে বিনামূল্যে রেশন বিলির ঘোষণা করেন তিনি। যদিও এবার তাতে বাড়তি সুযোগ যোগ করা হয়েছে। এদিনের বিবৃতিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি কোভিডে মারা গেলে তাঁর পরিবার প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পেনশন এবং সেই সঙ্গে পূর্ব ঘোষণামাফিক এককালীন ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে। পরে একে ব্যখ্যা করে তিনি বলেন, ‘যদি স্বামী একমাত্র রোজগেরে হন, তাহলে তাঁর স্ত্রী এবং স্ত্রী রোজগার করলে তাঁর স্বামী পেনশন পাবেন। আর কোনও অবিবাহিত ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর বাবা-মা-র হাতে টাকা তুলে দেওয়া হবে৷ সরকার আপনাদের যন্ত্রণা বোঝে। আমরা তো তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পারি না৷ তাই আর্থিক দিক থেকে নিরাপত্তা দিতেই এই পাশে থাকার উদ্যোগ।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More