প্রেমিকার হবু বরের হাতে খুন দিল্লির ব্যবসায়ী, দেহ মিলল গুজরাতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলা কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল দিল্লির ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী নীরজ গুপ্তার। সেই সম্পর্কের জেড়েই খুন হতে হল তাঁকে। প্রেমিকার হবু বরের হাতেই তাঁকে খুন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। খুনের পরে দেহ স্যুটকেসে ভরে ট্রেনে করে নিয়ে গিয়ে ফেলা হয় গুজরাতে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে ১৩ নভেম্বর। পুলিশ সূত্রে খবর, যে মহিলা কর্মীর সঙ্গে নীরজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। সেই বিয়েতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন নীরজ। এই কারণেই সেদিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির মডেল টাউনে ওই তরুণীর ভাড়া বাড়িতে তরুণীর মা ও তার হবু বরের সঙ্গে ঝগড়া হয় নীরজের।

পুলিশ জানিয়েছে, ঝগড়ার সময় নীরজের মাথায় একটি ইঁট তুলে মারে ওই যুবক। তারপর তাঁর পেটে তিনবার ছুরির কোপ মারা হয়। শেষে নীরজের গলা কেটে দেয় ওই যুবক। তারপরে দেহ লোপাট করার পরিকল্পনা করে তারা। এই কাজে যুবককে তার হবু বউ ও হবু শাশুড়ি সাহায্য করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় ওই তরুণী জুবের (২৮), তার মা শাহিন নাজ (৪৫) ও তার হবু বর ফয়জলকে (২৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে খুন, দেহ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

খুনের পরে নীরজকে বেশ কিছুদিন বাড়ি ফিরতে না দেখে পুলিশে খবর দেন তাঁর স্ত্রী। পুলিশকে তিনি জানান, জুবেরকে সন্দেহ হয় তাঁর। জুবের ও নীরজ গুপ্তা বহুদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে রয়েছে বলেও তিনি পুলিশকে জানান। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই ৩৬৫ ধারায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। জুবেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কিছুক্ষণ জেরার পরে সবটা খুলে বলে জুবের। সে বলে, নীরজ গুপ্তার কাছে সে কাজ করত ও গত ১০ বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার মা-বাবা চেয়েছিল ফয়জলের সঙ্গে তার বিয়ে হোক। তাদের মধ্য বাগদানও হয়ে যায়। একথা জানতে পেরে রেগে যান নীরজ। তিনি তাদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ফয়জলের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। সেই সময়েই জুবেরকে ধাক্কা দেন নীরজ। এতে রেগে গিয়ে প্রথমে ইঁট দিয়ে ও তারপর ছুরি দিয়ে তাঁকে খুন করে ফয়জল।

জানা গিয়েছে, খুনের পরে নীরজের দেহ একটি স্যুটকেসে ভরে গাড়িতে করে নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে যায় তারা। ফয়জল রেলের পেন্ট্রি সার্ভিসে কাজ করত। সে রাজধানী এক্সপ্রেসে করে গুজরাতের ভারুচে গিয়ে দেহ পুঁতে দেয়।

খুনের জন্য যে ইঁট ও ছুরি ব্যবহার হয়েছিল তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাওয়া গিয়েছে দেহ। সেটি দিল্লি আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More