বিশ্বজুড়েই করোনা লড়াইয়ে আশা দেখাচ্ছে ভারতীয় আয়ুর্বেদ: প্রধানমন্ত্রী

রাজস্থান ও গুজরাটে আজ দুটি আয়ুর্বেদ কলেজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। জামনগরে ইনস্টিটিউট অব টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদ এবং জয়পুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ কলেজের উদ্বোধনের সময় ভিডিও কনফারেন্সে মোদী বলেন, ভারতীয় আয়ুর্বেদের আরও প্রসার হচ্ছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শতাব্দী প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসাতেই আস্থা রাখছে বিশ্ব। অতিমহামারীর মোকাবিলা করতে এই প্রথমবার আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার সঙ্গে মিলে গেছে প্রাচীন ভারতের আয়ুর্বেদ। শুক্রবার আয়ুর্বেদ দিবসে ভিডিও বার্তায় এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রাজস্থান ও গুজরাটে আজ দুটি আয়ুর্বেদ কলেজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। জামনগরে ইনস্টিটিউট অব টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদ এবং জয়পুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ কলেজের উদ্বোধনের সময় ভিডিও কনফারেন্সে মোদী বলেন, ভারতীয় আয়ুর্বেদের আরও প্রসার হচ্ছে। সেই সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ছে। কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে অনেকটাই এগিয়ে ভারত। এর কারণই হল আয়ুর্বেদের চর্চা। ঘরে ঘরে আয়ুর্বেদিক উপাদানের টোটকা ব্যবহার করা হয় এখনও। হলুদি দুধ, অশ্বগন্ধা ইত্যাদি যে কোনও সংক্রমণের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদিক ওষধি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও বাড়ায়।

কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আয়ুর্বেদের প্রসারে উদ্যোগী। ২০১৬ সাল থেকে  ‘ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী’-কে ‘জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে দেয় নরেন্দ্র মোদীর সরকার। প্রতি বছরই ধন্বন্তরী পুজোর দিন জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর সেই দিন পড়েছে আজ অর্থাৎ শুক্রবার।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ একসঙ্গে কাজ করবে। এক দেশ এবং এক স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে থাকবে চিকিৎসাশাস্ত্রের এই তিন বিভাগই। করোনা থেরাপিতেও অ্যালোপ্যাথির সঙ্গে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে অনেক আগেই সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও এই তিন বিভাগকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

২০১৭ সালে চালু হওয়া জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির লক্ষ্য ছিল সমগ্র স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিজিটালাইজেশন করাই পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই মর্মে ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটাল নীতিতে সায় দেয় নীতি আয়োগ। তাদের তরফে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তুললে ভুল চিকিৎসার প্রবণতা কমবে, পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও উন্নতি হবে। চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসের দিনেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটালাইজেশনের জন্যই এক দেশ ও এক স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করা হবে।

করোনা সংক্রমণ রুখতে আয়ুষ মন্ত্রকের তত্বাবধানে আয়ুর্বেদিক উপাদানের ট্রায়ালের জন্য টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়েছে। এখন করোনার ক্লিনিকাল ট্রায়ালে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের ১৯ রকম উপাদানের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। করোনা থেরাপিতে ভারতীয় আয়ুর্বেদের ক্লিনিকাল ট্রায়াল করছে আমেরিকাও। ভারত ও আমেরিকা দুই দেশের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগেই আয়ুর্বেদের ওষুধ ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদানের কম্বিনেশন ট্রায়াল করা হচ্ছে করোনা রোগীদের চিকিৎসায়। পাশাপাশি আমেরিকার বিভিন্ন বায়োটেকনোলজি ফার্ম ও সায়েন্স রিসার্চ ল্যাবোরেটরিগুলিতে ভারতীয় আয়ুর্বেদ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। কোভিড সংক্রমণ নির্মূল করতে কীভাবে আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা, ইউনানির ফর্মুলাকে কাজে লাগানো যায় সে নিয়ে গবেষণা করছেন দুই দেশের বিজ্ঞানীরাই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More