করোনা চিকিৎসায় আইভারমেকটিন, ডক্সিসাইক্লিন ওষুধ বন্ধের নির্দেশ, নতুন গাইডলাইন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভিরের মতো আইভারমেকটিন ওষুধও কোনও কাজে আসছে না বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস (ডিজিএইচএস)। কোভিড থেরাপিতে এই ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে। আইভারমেকটিনের পাশাপাশি ডক্সিসাইক্লিন নামে আরও একটি ওষুধ যা কোভিড থেরাপিতে এতদিন ব্যবহার করা হচ্ছিল, তাও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও আইভারমেকটিন ওষুধ বন্ধ করার ব্যাপারে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) কোনও মতামত দেয়নি। আইসিএমআরের গাইডলাইনেও কোনও বদল করা হয়নি।

করোনা চিকিৎসায় কোন কোন ওষুধ বাতিল করতে হবে, আর কোন ওষুধের কী প্রয়োগ হবে সে বিষয়ে নতুন গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

কী কী বলা হয়েছে গাইডলাইনে?

ডিজিএইচএসের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, অ্যান্টিপাইরেটিক কিছু ওষুধ ছাড়া করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ ওষুধই বাতিল করা হবে। উপসর্গহীন রোগীদের থেরাপিতে বা মৃদু ও মাঝারি উপসর্গের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ রাখা যেতে পারে। বাকি সবই অপ্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কোভিড থেরাপিতে রেমডেসিভির কোনও সুফল দেখাতে পারেনি। এই ওষুধের ডোজে সংক্রমণ কমে যাওয়ার কোনও প্রমাণও নেই। হাসপাতালে ভর্তি সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগী বা যে রোগীদের অক্সিজেন থেরাপিতে রাখতে হচ্ছে তাঁদের ক্ষেত্রেই এই ওষুধের প্রযোগ হচ্ছিল, তাও লাভ হয়েছে বলে জানা নেই। ঠিক তেমনই করোনা রোগীদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন, ডক্সিসাইক্লিন, হাইড্রক্সোক্লোরোকুইন, জিঙ্ক ও মাল্টিভিটামিন জাতীয় ওষুধেরও কোনও কার্যকারিতা দেখা যায়নি। এইসব ওষুধ অবিলম্বে বাতিল করার কথাই বলা হয়েছে নতুন গাইডলাইনে।

Union health ministry issues revised guidelines; Ivermectin, Doxycycline  dropped from Covid19 treatment

আরও পড়ুন: আইভারমেকটিন কি কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকরী? হু এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, উপসর্গহীন রোগীদের জন্য কোনও ভারী ডোজের অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের দরকার নেই। অল্প উপসর্গ আছে এমন কোভিড রোগী, যাদের জ্বর, মাথাব্যথা, হাল্কা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে বা অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করেছে, তাদের ক্ষেত্রেই সঠিক ডোজে ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টোসিলিজুমাব ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। টোসিলিজুমাব ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ড্রাগ। সাইটোকাইন স্টর্ম ঠেকাতে এই ওষুদের প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। আইসিইউতে ভর্তি সঙ্কটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাতেই এই ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারেও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, স্টেরয়েড ব্যবহারের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। জটিল রোগ হলে বা শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যা শুরু হলে তখন নির্দিষ্ট মাত্রায় স্টেরয়েড দেওয়া যেতে পারে রোগীকে। কোভিড রোগীর ওজন, শারীরিক অবস্থা সব বিচার করেই ডোজের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। নিজে থেকে স্টেরয়েড নিতে পারবেন না রোগীরা। ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া এই জাতীয় কড়া ডোজের ওষুধ কোনওভাবেই নেওয়া উচিত হবে না। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাজে আসছে না রেমডেসিভির, করোনা চিকিৎসায় এই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়াই ভাল, মত বিশেষজ্ঞদের

আইভারমেকটিন ওষুধের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোভিড থেরাপিতে তেমনভাবে কাজে আসছে না এই ওষুধ। প্রোফাইল্যাকটিক বা সংক্রমণ প্রতিরোধী ওষুধ হিসেবে ১৮ বছরের উর্ধ্বে সকলকে আইভারমেকটিন খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল গোয়া সরকার। তারপরেই এই ওষুধের গুণাগুন আর কার্যকারিতা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই তার গাইডলাইনে বলেছিল, আইভারমেকটিন ওষুধ করোনা রোগীদের শরীরে নিরাপদ ও সুরক্ষিত কিনা বা এই ওষুধ কতটা কার্যকরী তার কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কোন ওষুধ ব্যবহার করা যাবে সেটা নির্ভর করে তার সেফটি ট্রায়ালের ডেটা ও এফিকেসি বিচার করে। আইভারমেকটিনের ক্ষেত্রে এই দুই তথ্যই অসম্পূর্ণ। কাজেই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট না পাওয়া অবধি এই ওষুধ করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করা উচিত হবে না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More