১৩০ কোটি টাকার হীরে চোরাচালান করে উধাও, ২৩ বছর পরে পাকড়াও অভিযুক্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হীরে চোরাচালানের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের খাতায় নাম আছে তাঁর। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। অবশেষে মুম্বই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নামকরা চোরাচালানকারী হরিশ কল্যাণদাস ভাবসার ওরফে পরেশ জাভেরি।

ঘটনাটি ১৯৯৭ সালের। বিদেশ থেকে হীরে আমদানির কারবার ছিল পরেশ জাভেরি ও তাঁর ভাইয়ের। শুধু হীরে নয়, তার সঙ্গে সোনাও আমদানি করতেন তাঁরা। সিঙ্গাপুর থেকে জলপথে মুম্বইয়ে আসত সেই সোনা ও হীরে। তারপরে তা মুম্বইয়ের বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিক্রি করতেন তাঁরা। দুই ভাইয়ের নিজেদেরও গয়নার দোকান ছিল। তার জন্যও সোনা-হীরে যেত। সবটাই অবশ্য হত নিয়ম মেনে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯৯৭ সালে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার একটা হীরের কনসাইনমেন্ট আসে পরেশ জাভেরি ও তাঁর ভাইয়ের নামে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে শুল্ক দফতরের চোখে ধুলো দিয়ে কর না দিয়েই সেই হীরে হাতিয়ে নেয় দু’ভাই। তারপরেই গা ঢাকা দেন তাঁরা।

ট্যাক্স না দেওয়ায় চোরাচালানের অভিযোগ দায়ের হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তভার নেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। দু’জনের বিরুদ্ধেই লুক আউট নোটিস জারি হয়। জাভেরির ভাই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও জাভেরি পালিয়ে যান। তাঁদের দোকানে হানা দিয়ে কিছু পায়নি পুলিশ। জাভেরির ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়।

দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে জাভেরির খোঁজ করছিল পুলিশ। অবশেষে বুধবার মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ গ্রেফতার করে ৫৩ বছর বয়সী পরেশ জাভেরিকে। নাম ও পরিচয় বদলে তখন তিনি হয়েছেন হরিশ কল্যাণদাস ভাবসার। অন্য ব্যবসা ফেঁদেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

জানা গিয়েছে, পরেশের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে ইডি। তাঁকে জেরা শুরু করবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে আর কে কে যুক্ত ছিল, বা ১৩০ কোটি টাকার হীরে নিয়ে তিনি কী করলেন, সেই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ইডি সূত্রে খবর।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More