লস্করে জঙ্গি ভর্তির দায়িত্ব, ভারতে ফিরতেই এনআইএ-র জালে বেঙ্গালুরুর ডাক্তার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে নাশকতা চালানোর জন্য পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর ই তইবাতে জঙ্গিদের ভর্তি করানোর দায়িত্ব ছিল বেঙ্গালুরুর ডাক্তার সাবিল আহমেদের উপর। ঘটনাচক্রে আবার ২০০৭ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলা করতে যাওয়া জঙ্গি কাফিল আহমেদের দাদা সে। এতদিন সৌদি আরবে পুলিশি হেফাজতে ছিল সাবিল। সেখান থেকে তাকে ভারতে পাঠানোর পরেই তাকে নিজেদের হেফাজতে নিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ।

এনআইএ সূত্রে খবর, সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে তাকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই কথা তারা ভারতকে জানায়। সেই মতো সাবিল দিল্লিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে এনআইএ। তাকে হেফাজতে নিয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, অনেক নাশকতার ঘটনায় তার যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। সাবিলের কাছ থেকে জঙ্গিদের সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেই ধারণা তদন্তকারী সংস্থার।

ভারতে নিজের জাল তৈরি করার পরে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে কাজ করত সাবিল। সেখান থেকেই নিজের জঙ্গি ভর্তির কাজ চালাত সে। তার ভাই কাফিল আহমেদ ছিল এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ২০০৭ সালের ২ অগস্ট স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলা চালাতে যায় সে। কিন্তু তার এই ছক ব্যর্থ হয়। হামলার আগেই বোমা ফেটে যায়। আর তাতেই নিহত হয় কাফিল। এই ঘটনার পরেই তার দাদা সাবিলের দিকে নজর পড়ে পুলিশের।

জানা গিয়েছে, ৩৮ বছরের সাবিল সেই সময় লন্ডনে ছিল। তারপরে ২০১০ সালে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ হাসপাতালে কাজ শুরু করে সে। মাঝে ভারতে এসে নিজের জাল বিস্তার করে সাবিল। তরুণদের ভুল বুঝিয়ে লস্করে যোগ দেওয়ানো ছিল তার দায়িত্ব।

পুলিশ সূত্রে খবর, গ্লাসগোর ঘটনার পরেই সাবিলেরও লস্কর যোগ সামনে আসে। ফলে তাকে ব্রিটেন থেকে বিতাড়িত করা হয়। তারপরেই ভারত ও সৌদি আরবে নিজের কাজ শুরু করে সাবিল। ২০১২ সালে বেঙ্গালুরুতে নাশকতার অভিযোগে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের মধ্যে নাম ছিল এই সাবিলেরও। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় ওয়ারেন্ট ও লুক আউট নোটিস ইস্যু হয়।

জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে দায়ের অভিযোগে বলা হয়, লেখক প্রতাপ সিমহাকে মারার পরিকল্পনা করেছে সাবিল। এই প্রতাপ সিমহা বর্তমানে কর্নাটকে মহীশুর থেকে বিজেপির সাংসদ। বেঙ্গালুরুতে যে ২৫ জনের নামের অভিযোগ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জনের সাজা শেষ হওয়ার পরে তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

এনআইএ জানিয়েছে, লস্করের সঙ্গে সাবিলের যোগাযোগ করিয়েছিল তার শ্যালক ইমরান আহমেদ ও বেঙ্গালুরুর এক ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ শাহিদ ফয়জল। ২০১৩ সালে ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে একবার গ্রেফতার হয় ইমরান। অন্যদিকে শাহিদের কোনও খোঁজ পুলিশের কাছে নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More