পূজা চহ্বান মামলা: তরুণীর মৃত্যু নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ হোক, মিডিয়াকে কড়া নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুণেতে বছর তেইশের তরুণী পূজা চহ্বান মৃত্যু মামলায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল বম্বে হাইকোর্ট। তরুণীর মৃত্যু নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি বন্ধ করা হোক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলিকে এমনই নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ।

বিচারপতি এসএস শিন্দে ও বিচারপতি মনীশ পিতালের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, তরুণীর মৃত্যুর পরেই তাঁর সঙ্গে অন্যান্য পুরুষের নাম জড়িয়ে মিডিয়া যে খবর সামনে আনছে তাতে তরুণীর পরিবারের সম্মানহানি হচ্ছে। এই মৃত্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কেচ্ছা রটানো হচ্ছে। পূজার মৃত্যুতে যাবতীয় অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন তাঁর বাবা। সেই মামলার শুনানিতেই আজ এই রায় দেয় বম্বে হাইকোর্ট।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় পূজা চাভান নামে ওই তরুণীর।  মহারাষ্ট্রের বীরজেলার বাসিন্দা পূজা পড়াশোনার জন্য পুণেতে ছিলেন। খবরে দাবি করা হয়, নিজের ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী। পূজার মৃত্যুর দুই থেকে তিন পরেই দুটি অডিও ক্লিপ সামনে আসে। যেখানে দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা যায় যাঁরা পূজার মৃত্যু নিয়ে কথা বলছিলেন। এরপরেই বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, একটি পুরুষকণ্ঠ বনমন্ত্রী সঞ্জয় রাঠোরের।

বনমন্ত্রীর নাম সামনে আসার পরেই হইচই শুরু হয়ে যায় নানা মহলে। তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, পূজার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ১২টি অডিও ক্লিপ নাকি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে মেয়েটির সঙ্গে অন্যান্য পুরুষের সম্পর্ক ছিল মনে করা হচ্ছে। এরপরেই এই অডিও ক্লিপগুলি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর ছড়াতে শুরু করে।

নিরুপায় হয়ে বম্বে হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন পূজার পরিবারের লোকজন। আজ সেই মামলার শুনানি চলার সময় তরুণীর পরিবারের হয়ে আইনজীবী শিরিষ গুপ্তে বলেন, পূজা চহ্বানের মৃত্যু নিয়ে নানারকম অপপ্রচার চলছে প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়াগুলিতে। তরুণী পুণেতে তাঁর নিজের ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তারপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মিডিয়া এই খবরকে নানারকম ভাবে পরিবেশন করছে। মেয়েটির মৃত্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্ক টেনে আনা হচ্ছে। এইসব নিয়ে যথেষ্ট কুৎসা রটছে চারদিকে। মিডিয়াকে অবিলম্বে এইসব খবর রটানো বন্ধ করতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More