ভারতে সুপার-স্প্রেডার করোনার ‘ডবল মিউট্যান্ট’, ছড়িয়েছে বিশ্বের আরও দশ দেশে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ‘ডবল মিউট্যান্ট’ স্ট্রেন সুপার-স্প্রেডার হয়ে গেছে ভারতে। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক তো বটেই এ কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের অন্যতম কারণ করোনার এই ডবল ভ্যারিয়ান্ট স্ট্রেন। আরও বেশি ছোঁয়াচে, খুব তাড়াতাড়ি এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়াতে পারে। অর্থাৎ হিউম্যান ট্রান্সমিশন হতে পারে খুব দ্রুত। ভারতে শুধু নয়, এই ডবল মিউট্যান্ট প্রজাতি এখন বিশ্বের আরও দশ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড টিমের টেকনিক্যাল হেড মারিয়া ভ্যান কারকোভে জানিয়েছেন, ব্রিটেন স্ট্রেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলীয় স্ট্রেনের পাশাপাশি এই ডব মিউট্যান্ট স্ট্রেনও এখন চিন্তার কারণ। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিন পরপর দুবার বদলে গিয়ে এই নতুন প্রজাতি তৈরি করেছে। ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে ছড়াচ্ছে এই নয়া প্রজাতি।

India's Double Mutant Jumps To 10 Countries. All You Need To Know

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) বিজ্ঞানী অপর্ণা মুখোপাধ্যায় বলেছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের দুটি মিউটেশন হচ্ছে– E484Q এবং  L452R। দুবার বদলের ফলে যে নতুন ভ্যারিয়ান্ট তৈরি হচ্ছে তার নাম দেওয়া হয়েছে  B.1.617 । এই নয়া ভ্যারিয়ান্ট অনেক বেশি ছোঁয়াচে। ট্রান্সমিশন রেট তথা ছড়িয়ে পড়ার হার বেশি। যেহেতু করোনার স্পাইক প্রোটিনে জিনের বিন্যাস বদলেছে তাই ভাইরাস এখন আরও দ্রুত বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ একজন মানুষের শরীরে ঢুকলে নতুন প্রজাতির স্পাইক প্রোটিন তাড়াতাড়ি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করে কোষে ছড়িয়ে পড়বে। সংক্রমণ দ্রুত ছড়াবে। এবার আক্রান্ত মানুষটির সংস্পর্শে যে বা যাঁরা আসবেন, তাঁদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়বে ভাইরাস পার্টিকল। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল তো এখন বলেই দিয়েছে, করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত হয়ে ছড়াতে পারে। সংক্রামিতের থুতু-লালার জলকণায় ভর করে ভাইরাস পার্টিকল বহুদূর অবধি ভেসে যেতে পারে এবং বাতাসে দীর্ঘক্ষণ টিকেও থাকতে পারে। এই ভাইরাসের জলকণা বাতাস থেকে খসে কোনও পদার্থ বা সারফেসে জমা হলে সেখান থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় বেশি। কারণ যে ভাইরাস এয়ারবোর্ন, তার সারফেসে বেঁচে থাকার সময়ও বেশি। ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন তাই পরিবেশেও অনেকটা সময় বেঁচে থাকতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

ভারতে অন্তত ৬০ শতাংশ সংক্রমণের কারণ এই ডবল মিউট্যান্ট প্রজাতি। মহারাষ্ট্রের কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল বলছেন, রাজ্যে ৫২ শতাংশ করোনা রোগীর নমুনায় ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে। দেশের অন্তত দশটি রাজ্যে এই নয়া প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে বলেই আশঙ্কা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More