১০০টি খুন করেছিল ডাক্তার, দেহ যেত কুমিরের পেটে, জেরায় উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল সিরিয়াল কিলার চিকিৎসককে। সেই ‘ডাক্তার ডেথ’ দেবেন্দ্র শর্মাকে জেরা করে একের পর এক তথ্য পাচ্ছে পুলিশ।

প্রাথমিক ভাবে ওই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক পুলিশকে জানিয়েছিল, ৫০টি খুন করার পর আর হিসেব রাখেনি সে। একের পর এক মানুষ মেরে গিয়েছে। হিসেব কষে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ১০০ জনকে খুনকে করেছে ওই ডাক্তার। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি, হরিয়ানার বেশ কিছু ট্রাক ও ট্যাক্সি চালক।

কিন্তু পুলিশ তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চায়, খুন করার পর সে দেহ গুলিকে কী করত? জেরায় ওই ডাক্তার কবুল করেছে মৃতদের দেহ কুমিরকে খাইয়ে দিত। যাতে প্রমাণ না থাকে তাই একের পর এক খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়া হত এমন জলাশয়ে যেখানে কুমির রয়েছে।

খুন বাদে অপহরণ, জাল গ্যাসের এজেন্সি চালানো, কিডনি পাচার চক্র চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ধরা পড়ে সে জেলে ছিল। মাঝে প্যারোলে মুক্তি পায়। সেই সময়েই উত্তরপ্রদেশের গ্রাম থেকে লুকিয়ে পালিয়ে আসে রাজধানীতে। দিল্লিতে গা ঢাকা দিয়ে ছিল ৬২ বছর বয়সী আয়ির্বেদ ডাক্তার।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৮৪ সালে বিহারের সিওয়ান থেকে আয়ুর্বেদ নিয়ে পাশ করে দেবেন্দ্র। ওই বছরেই সে জয়পুরে চালু করে একটি ক্লিনিক। ১৯৯২ সালে ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে গ্যাসের ডিলারশিপ নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এক ব্যক্তি তাকে ঠকায়। তার বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। ১৯৯৫ সালে সে আলিগড়ের চাহরা গ্রামে ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলে। তখন থেকেই জড়িয়ে পড়তে থাকে অপরাধ জগতের সঙ্গে।

২০০১ সালে আমরোহায় আর একটি ভুয়ো গ্যাস এজেন্সি খোলে এই ডাক্তার। ২০০৩ সালে আরও কয়েকজন দুষ্কৃতীর সঙ্গে শুরু করে ট্যাক্সি ছিনতাই। তারা আলিগড় থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করত। তারপর কোনও নির্জন জায়গায় গিয়ে ট্যাক্সিচালককে খুন করত। দেহটি ফেল দিত কাশগঞ্জে হাজারা খালে। ওই খালেই অনেক কুমির রয়েছে।

২০০৩ সালে দেবেন্দ্র শর্মা জয়পুর, বল্লভগড়, গুরগাঁও এবং আরও কয়েকটি জায়গায় কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়। ২০০৪ সালে আরও কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় তাকে। তার আগে সে অন্তত ১২৫ জনের বেআইনি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি প্রতিস্থাপনের জন্য পেয়েছিল পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকা।

এতগুলি অপরাধের জন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তাকে রাখা হয়েছিল রাজস্থানের জয়পুরে সেন্ট্রাল জেলে। ১৬ বছর জেলে থাকার পর গত জানুয়ারি মাসে তাকে ২০ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এইসময় নিজের গ্রাম থেকে লুকিয়ে চলে আসে দিল্লিতে। প্রথমে রাজধানীর মোহন গার্ডেন নামে এক জায়গায় জনৈক পরিচিতের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। পরে বাপরোলা অঞ্চলে চলে আসে।

দিল্লিতে তিনি সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ধরা পড়ার পরে টানা ২৪ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করা হয়। জেরার সময় তিনি ছিলেন শান্ত। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More