ড্রাগন ও হাতির যুগলনৃত্যই ভারত-চিন পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার সঠিক পথ: শি জিনপিং

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরোয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কূটনীতিতে ৪৮ ঘণ্টা আগেও কতই না জল্পনা ছিল। ভারত সফরে এসে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে না উদ্বেগ জানিয়ে বসেন! বিশেষ করে বেজিংয়ের কৌশলগত বন্ধু ইসলামাবাদের পরম আগ্রহ ছিল সেটাই।

কিন্তু ইমরান খানের আশায় বালতি বালতি জল ঢেলে দিয়ে ভারত সফর শেষে চিনা প্রেসিডেন্ট যে কথা বললেন, তাতে দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বুনিয়াদ আরও মজবুত করারই বার্তা রইল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনার পর জিনপিং এ শনিবার এক বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “ড্রাগন আর হাতির যুগলনৃত্যই ভারত-চিন পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার সঠিক পথ”।

বস্তুত, নয়াদিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেজিং বরাবরাই সতর্ক। এ ব্যাপারে প্রতিটি শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও স্পর্শকাতর। সে দিক থেকে দেখতে গেলে এ দিন ভারতে স্থিত চিনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শনিবার ভারত ছেড়ে যাওয়ার পরে ভারতে নিযুক্ত বেজিংয়ে রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েইডং টুইট করে বলেছেন, “মোদীর সঙ্গে শি-র বৈঠক খুবই সফল হয়েছে। কেন্দ্র ও তামিলনাড়ুর সরকার আমাদের প্রেসিডেন্টের প্রতি যে আতিথ্য দেখিয়েছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই”। ওই টুইট থেকে স্পষ্ট, শি-র ভারত সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে চিন।

ভারত সফরে আসার দু’দিন আগেই শি ডেকে পাঠিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। পরে যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি। তখন মনে হয়েছিল, শি-র ভারত সফরের আগেই হয়তো দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিজয় গোখলে বলেন, “মোদী ও শি-এর বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যু ওঠেইনি। শি বলেছেন, জেহাদিরা ভারত ও চিন, দুই দেশের কাছেই বিপদের কারণ”।

শনিবার ৭০ মিনিটের ঘরোয়া বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার তাঁরা কথা বলেছেন পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। শনিবার শি ফেরার আগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চিনের মিডিয়াতেও বলা হয়েছে, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের ফলে ভারত ও চিনের মধ্যে সমঝোতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিন ভারত ও চিনের প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকের শুরুতে শি বলেন, গতকাল আমি ও প্রধানমন্ত্রী মোদী খোলামেলা আলোচনা করেছি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শি বলেন, আপনার আতিথেয়তায় আমি ও আমার সহকর্মীরা মুগ্ধ। এবারের ভারত সফর আমাদের কাছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

পরে চিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এইরকম ঘরোয়া বৈঠক যথেষ্ট কার্যকরী হচ্ছে। আগামী দিনেও আমি তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসব।

গত বছর এপ্রিলে চিনের উহান শহরে ঘরোয়া বৈঠকে বসেন মোদী ও শি। মোদী এদিন বলেন, সেই বৈঠকের পর ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গতিশীল হয়েছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, দুই দেশের মতবিরোধগুলি সামলাব দক্ষতার সঙ্গে। ভারত ও চিনের মধ্যে যাতে মনান্তর না হয়, তার চেষ্টা করব। উভয় দেশ পরস্পরের ভাবাবেগের দিকে লক্ষ রাখবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২ হাজার বছর ধরে ভারত ও চিন ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি। নতুন শতাব্দীতে আমরা ফের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছি।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

https://www.thewall.in/pujomagazine2019/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%81-%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%90%e0%a6%b6-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b7-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-2/

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More