Exclusive: ইডির পূর্বাঞ্চলের ডিরেক্টরকে বদলি করল দিল্লি, চিটফান্ড, পাচার, ডিএ তদন্তে কি গতি বাড়ছে

যোগেশ গুপ্তা হলে ৯৩ সালের ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তার বদলির কারণ নিয়ে প্রশাসনিক ভাবে সাদা-কালোয় উত্তর পাওয়া মুশকিল।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি-র পূর্বাঞ্চলের স্পেশাল ডিরেক্টর যোগেশ গুপ্তাকে হঠাৎই দিল্লি বদলি করে দিল মোদী সরকার। তাঁকে স্পেশাল ডিরেক্টর (অ্যাডজুডিকেশন) করে পাঠানো হল দিল্লিতে। পরিবর্তে পূর্বাঞ্চলের ডিরেক্টর পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হল, দুঁদে আইআরএস অফিসার বিবেক ওয়াদেকরকে।

কৌতূহলের বিষয় হল, হঠাৎই কেন বদলি করা হল যোগেশ গুপ্তাকে?

যোগেশ গুপ্তা হলে ৯৩ সালের ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তার বদলির কারণ নিয়ে প্রশাসনিক ভাবে সাদা-কালোয় উত্তর পাওয়া মুশকিল। তবে নর্থ ব্লক সূত্রে ঘরোয়া ভাবে এর একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। তা হল—চিটফান্ড, আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তি মামলা সহ বিভিন্ন তদন্তে খুব বেশি অগ্রগতি হচ্ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্তা আবার তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই বলেন, কেন বদলি করা হয়েছে তা বলতে পারব না। হতে পারে এটা রুটিন বদলি। তবে কি এর আগে এমন দেখা গিয়েছে, এক জায়গায় অনেক দিন দায়িত্বে থাকলে অনেকের স্থানীয় বন্ধু তৈরি হয়ে যায়!

এখন প্রশ্ন এই বিবেক ওয়াদেকর কে?

নয়াদিল্লির প্রশাসনিক অলিন্দে অনেকে বলেন, ইনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর পছন্দের অফিসার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট কমিটি অফ অ্যাপয়ন্টমেন্ট এই রেভিনিউ সার্ভিসের অফিসারকে ২০১৮ সালে ইডি-র স্পেশাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করে। আরও বড় ব্যাপার হল, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন এবং ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য আন্তঃমন্ত্রক কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ১৯৯১ ব্যাচের এই আইআরএস অফিসার।

এই বদলির সঙ্গে কি আগামী বছর বিধানসভা ভোটের কোনও সম্পর্ক রয়েছে?

আপাত ভাবে কোনও যোগ যে নেই তা স্পষ্ট। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যোগ তো কখনও সরলরেখায় থাকে না। দুটি লাইনের মধ্যেও অনেক কথা থেকে যায়। বাংলায় চিটফান্ড কাণ্ডে সঙ্গে অনেক প্রভাবশালীর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে বহুদিন ধরে খবর। কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে আগেই বারবার জানা গিয়েছে, তার থেকেও বড় হল রাজনীতিকদের অনেকের বিরুদ্ধে আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তির অভিযোগ। ইদানীং আবার গরু পাচারের ঘটনা নিয়ে নতুন উদ্যমে তদন্ত শুরু হয়েছে। একুশের ভোটের আগে এই সব ব্যাপারে তদন্তে হঠাৎই গতি হলে তা শাসক দলের জন্য উদ্বেগের হতে পারে বইকি।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More