বিক্ষোভ তুলুন, রাস্তা খালি করুন, কৃষকদের নির্দেশ যোগী সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ অবস্থান চালাচ্ছেন কৃষকরা। গত মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কৃষকদের ট্র্যাক্টর র‍্যালি উপলক্ষ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানীর পরিস্থিতি। একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের ঘটনার পরে এবার দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের আন্দোলন তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের এই নির্দেশ দিয়েছে গাজিয়াবাদ প্রশাসন। সূত্রের খবর, আজ রাতের মধ্যে আন্দোলন তুলে নিয়ে রাস্তা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার দিল্লিতে হিংসার ঘটনার পরেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্র্যাক্টর র‍্যালিতে কৃষকদের যোগদান বিশেষ ছিল না। কারণ সীমান্ত বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন। ট্র্যাক্টর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। এখন দেখার প্রশাসনের এই নির্দেশের পরে কৃষকদের তরফে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছে কেন্দ্র। বুধবার সাংবাদিকদের সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর বলেন, “যারা অন্যদের উস্কিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। লালকেল্লায় যেভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে তা বরদাস্ত করবে না দেশ।” মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েন। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। ‘নিশান সাহিব’ নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার অভ্যন্তরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করেন।

কৃষক নেতাদের একাংশ আবার লালকেল্লার ঘটনার জন্য পাঞ্জাবের গায়ক, অভিনেতা তথা সমাজকর্মী দীপ সিধুকে দায়ী করেছেন। এক কৃষক নেতা বলেন, “দীপ সিধু সরকারের লোক। এই ষড়যন্ত্রটা আমাদের বোঝা দরকার।” পরে তিনি বলেন, “দীপ সিধু সর্দার নয় গদ্দার।”

অন্যদিকে দীপ সিধু ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, তাঁরা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেননি। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসাবে ‘নিশান ই সাহিব’ পতাকা লাগিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমরা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানোর জন্য নিশান সাহিব ও কৃষক সংগঠনের পতাকা লাগিয়েছিলাম। জাতীয় পতাকার অবমাননা করিনি। আমরা কিষাণ-মজদুর একতা নিয়ে স্লোগানও দিয়েছিলাম।”

ট্র্যাক্টর মিছিলের পরদিনই কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে। কিষাণ সংঘর্ষ কমিটির নেতা ভি এম সিং বলেছেন, “এই বিক্ষোভে এমন কেউ কেউ আছেন যাঁদের উদ্দেশ্য অন্য। আমরা তাঁদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারি না।” ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের একটি অংশও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা ঠাকুর ভানুপ্রতাপ সিং বলেন, “গতকাল দিল্লিতে যা ঘটেছে, তাতে আমি মর্মাহত। আমি এখনই আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে চাই।” ভানুপ্রতাপ সিং-এর অনুগামীরা চিল্লা সীমান্তে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের এদিন চলে যেতে দেখা যায়।

দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক মহলও। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় উস্কানি দেওয়া ও যুক্ত থাকার অভিযোগে ২৫টি বেশি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০০ জনকে আটক ও অন্তত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More