ব্যবসা, কর্মীদের সুরক্ষার জন্যই বজরং দলের বিরুদ্ধে নরম মনোভাব ফেসবুকের! উঠছে প্রশ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একবার নিজেদের নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ফেসবুকের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র ব্যবসা ও কর্মীদের সুরক্ষার জন্য নিজেদের পলিসি থেকে ফেসবুক সরেছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনাকে সমর্থন করার অভিযোগ ওঠার পরেও বজরং দলের সদস্যদের এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি ফেসবুক। সম্প্রতি এমনটাই নিজেদের রিপোর্টে জানিয়েছেন ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।’

রবিবার এই পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, দক্ষিণ পন্থী এই দলের সদস্যদের উস্কানিমূলক পোস্টের পরেও ফেসবুকের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কারণ তেমনটা হলে ভারতে তাদের ব্যবসা ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারত।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তরফে সম্প্রতি ঘটা একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জুন মাসে একটি ভিডিও ভাইরাল হয় ফেসবকে। সেখানে দিল্লির বাইরে একটি চার্চে হামলার দায় নিতে দেখা যায় বজরং দলকে। ভিডিওটি আড়াই লাখ মানুষ দেখেছেন। কিন্তু তারপরেও কোনও পদক্ষেপ নাকি নেওয়া হয়নি কোম্পানির তরফে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফেসবুকের এক আধিকারিক তাদের জানিয়েছেন, “বজরং দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে একদিকে যেমন হিন্দু প্রধান ভারতে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে, তেমনই অন্যদিকে ফেসবুকের অফিস ও কর্মীদের উপরেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।”

অবশ্য কোম্পানির সবাই এই ধরনের চিন্তাভাবনা করছেন না। জার্নালে উল্লেখ করা হয়েছে, “ফেসবুকের একদল কর্মী বলছেন, ফেসুবকে বজরং দলের মতো একাধিক সংগঠনের উপস্থিতির ফলে ভারতে ঘৃণা ছড়ানো ও উস্কানিমূলক কথা বন্ধ করার যে পলিসি কোম্পানির রয়েছে তা বিঘ্নিত হচ্ছে।”

জার্নালে বলা হয়েছে, অগস্ট মাসেই একটি রিপোর্টে তারা জানিয়েছিল যে ভারতের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি নেতাদের প্রতি একটি পক্ষপাতিত্ব করছে ফেসবুক। এই বিষয়ে ভারতে ফেসবুকের প্রাক্তন এগজিকিউটিভ আঁখি দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যের পরেও বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি। অবশ্য ফেসবুকের তরফে জানানো হয়, কোনও রকমের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কোম্পানির পলিসি মেনেই তারা চলবে। তার কিছুদিন পরে পদত্যাগ করেন আঁখি দাস।

নতুন এই রিপোর্টের বিষয়ে ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেছেন, “কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা দল না দেখে আমাদের যে পলিসি রয়েছে তা সব জায়গায় প্রয়োগ করি আমরা।” ফেসবুকের তরফে সাফাই দেওয়া হলেও বারবার কিন্তু অভিযোগ উঠছে সংগঠনের বিরুদ্ধে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More