শ্বাস নেবে করোনা রোগী, অক্সিজেন পৌঁছবে রাজ্যে রাজ্যে, মুম্বই থেকে ছুটল ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকা গড়াল অক্সিজেন এক্সপ্রেসের। মুম্বই থেকে দেশের প্রথম অক্সিজেন এক্সপ্রেস রওনা দিয়ে দিয়েছে ভাইজ্যাকের দিকে। ট্যাঙ্ক ভর্তি তরল অক্সিজেন ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটবে রাজ্যে রাজ্যে।

করোনার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছবিটা দেখা যাচ্ছে ভারতেই। দ্বিতীয় ঢেউ সুনামির মতো আছড়ে পড়ার পড়ে রাজ্যে রাজ্যে অক্সিজেনের হাহাকার শুরু হয়েছে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমে অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাব বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টও কম। তাই অক্সিজেন সিলিন্ডার রাজ্যে রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার বৃহত্তর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় রেল, নাম দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন এক্সপ্রেস। বড় বড় ট্যাঙ্কারে তরল অক্সিজেন ভরে নেওয়া হবে। তাছাড়া অক্সিজেনের জাম্বো সিলিন্ডারও থাকবে। যে রাজ্যগুলি প্রস্তাব পাঠাবে, সেখানে পৌঁছে যাবে অক্সিজেন এক্সপ্রেস।

Train with seven tankers leaves for Visakhapatnam to get oxygen - The Hindu

গতকাল সন্ধ্যায় অক্সিজেন এক্সপ্রেসের প্রথম ট্রায়াল হয়েছে। নভি মুম্বইয়ের কালামবোলি গুড ইয়ার্ড থেকে সাতটি ফাঁকা ট্যাঙ্কার নিয়ে বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্টের দিকে রওনা দিয়েছে অক্সিজেন এক্সপ্রেস। বিশাখাপত্তনম, জামসেদপুর, রাউরকেল্লা থেকে অক্সিজেন ভরে পৌঁছে যাবে রাজ্যে রাজ্যে। ট্যাঙ্ক ভর্তি ও খালি করার জন্য কালামবোলি গুড ইয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টার জন্য র‍্যাম্প তৈরি হয়েছে।

Oxygen Express train begins journey from Maharashtra's Kalamboli to get  loaded in Visakhapatnam- The New Indian Express

রবিবারই রেল মন্ত্রকের তরফে অক্সিজেন এক্সপ্রেসে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়। রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল জানান, ট্রেনে চাপিয়ে যাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয় তার জন্য আর্জি জানিয়েছিল মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ, এই দুই রাজ্যের সরকার। প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল অন্যান্য রাজ্য থেকেও। দেশের হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে অক্সিজেনের বিপুল ঘাটতি দেখেই এই ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। শুরুতে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা হচ্ছিল। প্রথমত ট্যাঙ্কারে তরল অক্সিজেন ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া, তারপর কোন স্টেশনে দাঁড়াবে, অন্যান্য ট্রেনগুলির যাতায়াতের সময় বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা তা দেখা হচ্ছিল। রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অক্সিজেন ভর্তি ট্রেন গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হবে। সমস্ত র‍্যাম্প তৈরি হয়ে গেছে।

করোনার প্রথম ধাক্কা আসার পরে রোগীদের জ্বর, গা হাত পায়ে ব্যথা এমন উপসর্গই বেশি দেখা যাচ্ছিল। সেই সঙ্গে শ্বাসের সমস্যা হচ্ছিল কিছু রোগীর। তাছাড়া স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়ার মতো উপসর্গ তো ছিলই। দ্বিতীয় ধাক্কায় শ্বাসের সমস্যাই প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। এই পর্বে দেখা যাচ্ছে, করোনা আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগেরই বয়স ৪০ বছর বা তার বেশি। আর চল্লিশোর্ধ্ব বেশিরভাগ রোগীরই নানারকম রোগ রয়েছে, তাই তাঁদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কৃত্রিম ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন সাপোর্টের খুব প্রয়োজন হচ্ছে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে। তাই এখন অক্সিজেন এক্সপ্রেস সেই চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে রেল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More