জার্মানি থেকে ২৩টি মোবাইল অক্সিজেন প্ল্যান্ট উড়িয়ে আনছে সরকার, ঘাটতি মিটবে রাজ্যগুলিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে অক্সিজেনের হাহাকার। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে থিকথিক করছে করোনা রোগী। মেডিক্যাল অক্সিজেনের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য হতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এবার বিদেশ থেকে অক্সিজেন আমদানির জন্য আসরে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে জার্মানি থেকে ২৩টি মোবাইল অক্সিজেন প্ল্যান্ট উড়িয়ে আনা হচ্ছে দেশে। আশা করা হচ্ছে এই মোবাইল প্ল্যান্টগুলিতে তৈরি অক্সিজেন রাজ্যে রাজ্যে বিপুল চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখ্যসচিব এ ভারত ভূষণ বলেছেন, প্রতিটি প্ল্যান্টে অক্সিজেন তৈরির সব ব্যবস্থাই থাকবে। ইচ্ছামতো সেগুলিকে স্থানান্তরিত করা যাবে। এক একটি প্ল্যান্টে প্রতি মিনিটে ৪০ লিটার করে অক্সিজেন তৈরি হবে। প্রতি ঘণ্টায় কম করেও ২৪০০ লিটার অক্সিজেন তৈরি হবে। আর্মড ফোর্স মেডিক্যাল সার্ভিসেস (এএফএমএস)-এর অধীনস্থ সেনা হাসপাতালগুলিতে এই মোবাইল অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলি রাখার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিদিনে যতটা উৎপাদন হবে তা চাহিদা মাফিক রাজ্যে রাজ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

দেশে এখন প্রতিদিনের হিসেবে যে পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন হচ্ছে তার বেশিটাই খরচ হয়ে যাচ্ছে। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, হরিয়ানায় যেভাবে মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে চলেছে তাতে দিনের হিসেবে মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা তুঙ্গে। দিল্লির বেশিরভাগ হাসপাতালেই অক্সিজেনের যোগান নেই। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশেরও একই হাল। এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও আগামী সপ্তাহ থেকে দিন প্রতি অক্সিজেনের চাহিদা আরও বাড়বে বলেই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই সময় সঞ্চিত অক্সিজেনের ভাঁড়ারে টান পড়বে।

দেশের এমন সঙ্কটের পরিস্থিতিতে ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মানি সহ কয়েকটি দেশ থেকে মেডিক্যাল অক্সিজেন আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। জার্মানি থেকে ইতিমধ্যেই ২৩টি মোবাইল অক্সিজেন প্ল্যান্ট চলে আসছে দেশে। অক্সিজেনের চাহিদা মেটানোর জন্য ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ব্রিটেন, আমেরিকা। করোনা মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকেও তৈরি থাকতে বলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থাকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উচিত তাদের সবরকম পরিকাঠামো ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে দেশবাসীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। রাজনাথ বলেছেন, দেশের সব মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলুক সেনাবাহিনী। তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী যাবতীয় সাহায্য করুক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More