
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে অর্থনৈতিক উৎপাদন অনেক কমে যাওয়ায় জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) বাবদ আয়ও অনেক কমে যায়। কিন্তু বেশ কয়েক মাস পরে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়তে থাকে। তার ফলে অক্টোবর মাসে জিএসটি বাবদ আয় বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলেই ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে এই প্রথমবার জিএসটি বাবদ আয় ১ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
একটি বিবৃতি জারি করে একথা জানানো হয়েছে অর্থমন্ত্রকের তরফে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অক্টোবর মাসে ১ লাখ ৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে জিএসটি বাবদ। তার মধ্যে সেন্ট্রাল গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বাবদ আয় হয়েছে ১৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। স্টেট গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বাবদ আয় হয়েছে ২৫ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই মাসে ইন্টিগ্রেটেড গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বাবদ আয় হয়েছে ৫২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। তারমধ্যে সামগ্রী আমদানির মাধ্যমে ২৩ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া সেস বাবদ ৮০১১ কোটি টাকা আদায় হয়েছে যার মধ্যে ৯৩২ কোটি টাকা আমদানির মাধ্যমে আদায় হয়েছে। গত মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে জিএসটি বাবদ আয় ছিল ৯৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, অক্টোবর মাসে জিএসটিআর-৩বি রিটার্ন জমা পড়েছে ৮০ লাখ।
চলতি বছর অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। গত বছর অক্টোবর মাসের তুলনায় তা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে ৯৫ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল রাজস্ব বাবদ। অক্টোবর মাসে আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব বেড়েছে ৯ শতাংশ। এছাড়া অন্তর্দেশীয় পরিবহণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১১ শতাংশ। দুটো মিলিয়ে মোট ১০ শতাংশ বেড়েছে এই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ।
ভারতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কমতে থাকে এই জিএসটি আদায়ের পরিমাণ। ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার নীচে নেমে যায় জিএসটি আদায়ের পরিমাণ। দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ট্যাক্স কমতে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়তে থাকায় ফের তা বাড়তে শুরু করেছে। আর তার ফলেই ফের বেড়েছে জিএসটি আদায়ের পরিমাণও। অক্টোবর মাসেই সেটা দেখা যাচ্ছে।