৮৩টি তেজস যুদ্ধবিমান পাচ্ছে বায়ুসেনা, ৪৮ হাজার কোটির বরাত পেল হ্যাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৮৩টি তেজস মার্ক-১এ লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট পাচ্ছে বায়ুসেনা। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বরাত পেল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড তথা হ্যাল।

প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, আগামী তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই যুদ্ধবিমান পৌঁছবে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে। ৭৩টি মার্ক-১ এ যুদ্ধবিমান ও ১০টি ট্রেনিং এয়ারক্রাফ্ট তৈরির বরাত পেয়েছে হ্যাল।

মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানি লকহিড মার্টিন এবং সুইডেনের সাব এবি-র থেকে ১১৪টি তেজস ফাইটার জেট কেনার চুক্তি হয়েছিল সেই ২০১৮ সালে। তবে করোনা মহামারীর কারণে সেই আন্তর্জাতিক চুক্তি থমকে গেছে। দেশের সংস্থা হ্যালের থেকেই তাই ৮৩টি এলসিএ তেজস কেনার চুক্তি করে বায়ুসেনা। এদিন সরকারিভাবে ৪৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৮৩টি যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত হ্যাল চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর মাধবনের হাতে তুলে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা।

মঙ্গলবারই বেঙ্গালুরুতে হ্যালের নতুন কেন্দ্রের সূচনা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, “আমি খুবই খুশি যে হ্যাল ৮৩টি তেজস যুদ্ধবিমানের বরাত পেয়েছে। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের এটি অন্যতম বড় দিক।”

HAL Light Combat Aircraft Tejas
লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট তেজস শব্দের চেয়ে দ্রুত বেগে ছুটতে পারে

লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট, ওজনে হালকা কিন্তু ছুটতে পারে শব্দের চেয়েও বেশি বেগে। ডবল ইঞ্জিন, মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট তেজস। যেমন ক্ষিপ্র এর গতি তেমনি নির্ভুল এর নিশানা। রাফাল প্রায় সাড়ে ৯টন ওজন বইতে পারে, তেজসও ৯ টনের বেশি ওজন বয়ে নিয়ে যেতে পারে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে বানানো দ্বিতীয় যুদ্ধবিমান। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  শক্তিতে এবং আক্রমণের ক্ষমতায় তেজস সুপারসনিক এয়ারক্র্যাফ্ট রাফালেরই সমতুল্য।

তেজসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, শত্রুপক্ষের নজরদারির বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্ষিপ্র গতির তেজসকে নিশানা করা যেমন অসম্ভব, তেমনি আকাশে একে ধাওয়া করে যাওয়ায় বেশ কঠিন। তেজসের ককপিটে থাকা পাইলট সহজেই শত্রুপক্ষের মিসাইলের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারেন।

Aero India: Govt to award ₹48k cr contract to HAL for 83 advanced Tejas jets | Hindustan Times

তেজস মার্ক ১এ ভ্যারিয়ান্ট বা হ্যাল তেজসে আছে কমপাউন্ড ডেল্টা উইং। এয়ার-টু-সারফেল অর্থাৎ আকাশ থেকে ভূমিতে নির্ভুল টার্গেট করতে পারে তেজস। এর সাতটা হার্ড পয়েন্ট রয়েছে যার মাধ্যমে ৫ থেকে ৯ হাজার কিলোগ্রাম অবধি যুদ্ধাস্ত্র বইতে পারে তেজসের এই ভ্যারিয়ান্ট। দিনে-রাতে, আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে তেজস। এর হেলমেট-মাউন্টেড সিস্টেম ও নাইট ভিশনের ক্ষমতা রয়েছে। মাল্টি-মোড রাডার আছে তেজসের এই ভ্যারিয়ান্টে।

মিসাইল সিস্টেম

বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ মিসাইল ছোড়া যায় তেজস থেকে। ব্রাহ্মসের মতো সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তিও রয়েছে তেজসে। আর-৭৭ ও পাইথন-৫ এর মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতাও আছে তেজস মার্ক ১এ ভ্যারিয়ান্টের। আর-৭৭ হল রাশিয়ার তৈরি মাঝারি পাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। পাইথন-৫ মিসাইল তৈরি করেছে ইজরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম। এটি বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ (BVR)এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। তেজসকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য এর সঙ্গে ইজরায়েলি ডার্বি ও রাশিয়ার ক্লোজ কমব্যাট মিসাইল যোগ করা হবে। ডার্বির ভ্যারিয়ান্ট আই-ডার্বি ইআর আরও বেশি শক্তিশালী। সারফেস-টু-এয়ার (SAM) অর্থাৎ ভূমি থেকেও আকাশে টার্গেট করা যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। তেজসের এই ভ্যারিয়ান্টের জন্য ডার্বির উন্নত সংস্করণকেই বেছে নিচ্ছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More