হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীকে কালো পতাকা কৃষকদের, বিক্ষোভের জেরে ফিরতে হল কনভয়কে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত প্রায় এক মাস ধরে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল দেশ। কেন্দ্রের নিয়ে আসা তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতায় দিল্লির বাইরে অবস্থানে বসেছেন লাখ লাখ কৃষকরা। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঞ্জাব ও হরিয়ানার। এই আন্দোলনের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ দিল্লি। কৃষক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরকেও। আম্বালা যাওয়ার পথে কালো পতাকা দেখানো হল তাঁকে। বিক্ষোভের জেরে ফিরে আসতে হল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে।

মঙ্গলবার খট্টরের কনভয়কে আটকানোর চেষ্টা করেন কৃষকরা। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে খট্টরের কনভয়ের সামনে কালো পতাকা ও লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে কৃষকরা। কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি সরকার বিরোধী স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাঁদের। কৃষকদের জমায়েত দেখেই ধীরে হয়ে যায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সরানো যায়নি। অবশেষে যে পথে এসেছিল সে পথেই ফিরে যায় খট্টরের কনভয়।

পুরসভার ভোটের দাঁড়ানো বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মঙ্গলবার আম্বালা যাচ্ছিলেন মনোহর লাল খট্টর। তার আগেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। গত ১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রতন লাল কাটারিয়াকেও কালো পতাকা দেখান কৃষকরা। তিনি আবার আম্বালার সাংসদ।

গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষকরা এসে জড়ো হয়েছেন দিল্লি সীমান্তে। সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রের নিয়ে আসা তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, কৃষকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। এই আইন কৃষকদের স্বার্থেই নিয়ে আসা হয়েছে। বিক্ষোভের মুখে আইনে সংশোধনীর কথাও শোনা যায় সরকারের মুখে। কিন্তু কৃষকরা বিক্ষোভে অনড়। তাঁদের দাবি, এই আইন প্রত্যাহার না হওয়ার পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে পাঁচবার বৈঠকে বসেছেন তাঁরা। তারপরেও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। কেন্দ্রের তরফে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কৃষকদের। এছাড়া কবে তারা বৈঠকে বসতে চায় সেই প্রশ্নও জানতে চেয়েছে কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধান করতে চায় তারা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More