দু-তিন মাসের রসদ রয়েছে, দীর্ঘ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল্লি অভিযানে কৃষকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে মোদী সরকার যেদিন থেকে কৃষি বিল নিয়ে এল সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ। তারপর সেই বিলে যেদিন সিলমোহর পড়ে গেল সেদিনই যেন বিক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ল। এনডিএ জোট ছাড়লেন অকালি দল নেত্রী হরসিমরত কউর বাদল। জানালেন, কৃষকদের সঙ্গে এই আন্দোলনে রয়েছে তাঁর দল। কৃষকরা পাশে পেলেন কংগ্রেস, বাম- সহ প্রায় সব বিরোধী দলকে। তারপরেই এই আন্দোলন আরও বড় আকার নিল। আর এখন তা দিল্লির পথে। বড় আন্দোলনের সব রকমের পরিকল্পনা করেই দিল্লির দিকে পা বাড়িয়েছেন কৃষকরা।

প্রথম প্রথম এই আন্দোলন নিজেদের রাজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পথ কিংবা রেল অবরোধ করে আন্দোলন করতেন তাঁরা। কিন্তু নিজেদের রাজ্যের আন্দোলনকে গোটা দেশের সামনে তুলে ধরার জন্য দেশের প্রায় ৫০০ কৃষক সংগঠন মিলে সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি যাওয়ার। ডাক দেওয়া হল ‘দিল্লি চলো’। দেশের ছ’টি রাজ্যের কৃষকরা সামিল হয়েছেন এই আন্দোলনের। আর যাতে দীর্ঘদিন ধরে তা চালানো যায় তার সব রকমের বন্দোবস্ত করেছেন তাঁরা।

পাঞ্জাব থেকে দিল্লির পথে যাওয়া কৃষকরা এই খবর সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন। তারপ্রীত উপ্পল নামের এক যুবক সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আমাদের কাছে দু-তিন মাস কাটানোর মতো রসদ রয়েছে। একটা ৫ হাজার লিটারের জলের ট্যাঙ্ক, গ্যাস স্টোভ, ইনভার্টার, ম্যাট্রেস, গদি, কম্বল, সব্জি সব সঙ্গে নিয়ে এসেছি আমরা। আমরা যতদিন দরকার হয় দিল্লিতে থাকব। আমরা দিল্লি জিততে চলেছি। আমরা ওদের জোর করে আমাদের কথা শোনাব।”

কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, দেশের প্রায় ৩ লাখ কৃষক এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। প্রায় ৭০০টি ট্রলি যাচ্ছে দিল্লির উদ্দেশে। প্রতিটি ট্রলিতে ২০জন করে রয়েছেন। এছাড়াও ট্রাক্টরে করে, পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন অনেকে। মিছিলে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

পাঞ্জাব থেকে দিল্লির দিকে যাচ্ছেন প্রায় ৫০ হাজার কৃষক। গতকাল মধ্যরাতে হরিয়ানার সোনিপতে তাঁদের উপর ছাড়া হয়েছে জলকামান। কিন্তু তাতেও তাঁদের থামানো যায়নি। এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকা কৃষক সংগঠনগুলির দাবি, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই দিল্লি সীমান্তে গিয়ে উপস্থিত হবেন তাঁরা।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ও অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, “আশা করা যাচ্ছে ৫০ হাজারের বেশি কৃষক আজ সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লি সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকবেন। রাতে সেই সংখ্যাটা আরও বাড়বে। কারণ পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ট্রাক্টরে করে অনেক শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধরাও আসছেন।”

হরিয়ানার সোনিপতে পাঞ্জাব থেকে আসা এই কৃষকদের মিছিলে জলকামান দাগা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছেন তাঁরা। যদিও কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছে শান্তিপূর্ণ ভাবে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছেন কৃষকরা। অবশ্য কিছু জায়গায় বল প্রয়োগ করতেও দেখা গিয়েছে কৃষকদেরও। হরিয়ানাতে একটি ব্রিজে থাকা ব্যারিকেড তুলে নদীতে ফেলে দিয়েছেন তাঁরা। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

গত দু’মাস ধরে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও কেরলের প্রায় ৫০০ কৃষক সংগঠন এই দিল্লি অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। গত ৩ ডিসেম্বর তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। কিন্তু সেই আলোচনায় বসতে রাজি নন তাঁরা।

কেন্দ্রের আনা তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই আন্দোলন শুরু করছেন কৃষকরা। এই আন্দোলনে তাঁরা পাশে পেয়েছেন বিভিন্ন বিভিন্ন বিরোধী দলগুলোকে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, কৃষকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। এই আইনগুলি তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। যদিও সেকথা মানতে নারাজ কৃষকরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More