কোভিডে রেকর্ড মৃত্যু দেশে, একদিনেই ১৭০০ ছাড়াল, দ্বিতীয় ঢেউয়ে মোট আক্রান্ত দেড় কোটি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। পৌনে তিন লাখ থেকে আড়াই লাখে নেমেছে। তবে তাতে চিন্তা বিন্দুমাত্র কমেনি। কারণ করোনায় একদিনেই মৃতের সংখ্যা রেকর্ড করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১৭৬১ জনের, এখনও অবধি যা সর্বাধিক। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরে মৃত্যুহার তেমনভাবে না বাড়লেও প্রতিদিন সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা কিন্তু বাড়ছে। খুব শীগগির দৈনিক মৃত্যু দু’হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভাইরাস সক্রিয় রোগী বেড়েই চলেছে দেশে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যাণে ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। একদিনে লাখের বেশি অ্যাকটিভ অ্যাকটিভ রোগী ধরা পড়ছে, যা রীতিমতো চিন্তার বিষয় বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার বাড়ছে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের হার যথেষ্টই বেশি। রোগ ছড়িয়ে পড়ছে খুব তাড়াতাড়ি।

দেশের সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত রাজ্য মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫৮,৯২৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫১ জনের। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের করোনা পরিস্থিতিও ভয়ঙ্কর। বৃহন্মুম্বই পুরসভা জানাচ্ছে, মুম্বইতে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ছাড়িয়েছে। বস্তি এলাকাগুলোর থেকে বড় বড় আবাসনেই সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বেশি। শহরের অন্তত ৯০ শতাংশ সংক্রমণের রিপোর্ট এসেছে আবাসনগুলি থেকেই। রাজ্যে এখন ১৫ দিনের লকডাউন চলছে। তবে তাতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সম্পূর্ণ লকডাউনের কথা ভাবা যেতে পারে বলেই জানিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের প্রশাসন।

দিল্লিতে একদিনে সর্বাধিক মৃত্যু ২৫০, যা এখনও অবধি রেকর্ড করেছে। স্বাস্থ্য দফতর বলেছে, প্রতি ঘণ্টায় রাজধানীতে অন্তত ১০ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা এতটাই বাড়ছে যে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে কোভিড বেড দেওয়া যাচ্ছে না রোগীদের। একই বিছানায় রোগীদের ঠাসাঠাসি করে থাকতেও দেখা গিয়েছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে সংক্রমণ বেশি।  বিহারে রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত এই কার্ফু কার্যকর থাকবে। উত্তরপ্রদেশের ৫ শহরে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। লখনউ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, কানপুর এবং গোরক্ষপুর— এই ৫ শহরে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More