নানকানা সাহিবে হামলার কথা স্বীকার করেও মোদীকে কটাক্ষ ইমরানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে হামলার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি জানান, গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার। রেওয়াত করা হবে না হামলাকারীদেরও। ইমরানের দাবি, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো নন, যে সংখ্যালঘুদের উপর নির্তান মুখ বুঝে মেনে নেবেন।

গুরু নানকের জন্মস্থান নানকানা সাহিবের প্রসিদ্ধ গুরুদ্বারটি শিখদের অন্যতম তীর্থস্থান। শুক্রবার সেখানে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। ভিন ধর্মে বিয়ের একটি ঘটনা ঘিরে অশান্তির জেরে কয়েকশো মানুষ নানকানা সাহিব গুরুদ্বার ঘিরে ফেলে।  ভিতরে আটকে পড়েন পুণ্যার্থীরা। অভিযোগ ওঠে, শিখ পুণ্যার্থীদের দিকে পাথর ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার ভিডিও ঘিরে উত্তাল হযে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। দিল্লি কড়া বিবৃতি দিয়ে সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য পাক সরকারকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলে। যদিও পাক বিদেশমন্ত্রক দাবি করে, ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া হচ্ছে। গুরুদ্বার অক্ষতই আছে বলে দাবি করা হয় পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফে।

পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ টুইটারে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সক্রিয় হওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শিরোমণি অকালি দলের নেতা সুখবীর সিংহ বাদলও। অকালি দল, যুব কংগ্রেস এবং দিল্লি শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটি দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভ দেখায় বিজেপিও। যার জেরে অনেকটা বাধ্য হয়েই মুখ খোলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। টুইট করে তিনি বলেন, ‘‘নানকানা সাহিবের ঘটনার সঙ্গে ভারতে মুসলিমদের ও সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার মধ্যে অনেক ফারাক আছে। প্রথমটা আমার দৃষ্টিতে অপরাধ। সংকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে।’’

আরও পড়ুন: জেএনইউয়ের হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনতে পেরেছে পুলিশ, গ্রেফতার হয়নি কেউ

মোদী সরকারের সমালোচনা করে পাক প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ভারতের পুলিশ সরকারের নির্দেশেই মুসলিমদের উপর হামলা চালায়। মোদী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এই হামলাকে সমর্থন করে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভারতে মুসলিম সংগঠন জামাত-এ-ইসলামি হিন্দ নানকানা সাহিবের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাথর ছোড়ায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন জামাতের প্রেসিডেন্ট সাদাতুল্লা হুসেইনি। পাকিস্তানে শিখদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চার প্রতিনিধিকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ভারতের শিরোমনি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি) ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More