দেড় লাখের নীচে কোভিড অ্যাকটিভ রোগী, মৃত্যু আজও একশোর কম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। কেরল, মহারাষ্ট্র এই দুই রাজ্য বাদে বাকি রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের হার কম। দৈনিক বৃদ্ধিও কম। গত সাতদিনে প্রথমবার দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজারের নীচে নেমেছিল গতকাল। আজ কিছুটা বেড়ে ১১ হাজারে পৌঁছেছে। তবে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি হয়নি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছে, কোভিড পজিটিভিটি রেট কম।

করোনায় মৃত্যুহার রেকর্ড করেছে দেশে। গত দু’দিন ধরে দৈনিক মৃত্যু একশোর কম। গতকাল সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ছিল ৭৮। কেন্দ্রের হিসেব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৯৪। মৃত্যুহারও কম ১.৪৩%। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, ভারতে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুহার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ক’মাস আগেও সংক্রমণে মৃত্যু হাজার ছাড়াচ্ছিল। গত সপ্তাহে তা আড়াইশো জনে নামে। এবার এক ধাক্কায় একশোর নীচে নেমেছে। ক’মাস আগেও সংক্রমণে মৃত্যু হাজার ছাড়াচ্ছিল। গত সপ্তাহে তা আড়াইশো জনে নামে। এবার এক ধাক্কায় একশোর নীচে নেমেছে।

ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও অবিশ্বাস্যভাবে কমছে। আড়াই লাখের কোঠা থেকে এখন করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা দেড় লাখেরও কম। কেন্দ্রের হিসেবে ১ লাখ ৪১ হাজারের কাছাকাছি। করোনা অ্যাকটিভ কেসের হার দেড় শতাংশেরও নীচে।

বাংলা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। তামিলনাড়ুতেও যেখানে সংক্রমণ চড়চড় করে বাড়ছিল সেখান থেকে অনেকটাই পরিস্থিতি আয়ত্তে এসেছে। তবে চিন্তা রয়েছে কেরল ও মহারাষ্ট্রকে নিয়ে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যাণ বলছে, নতুন সংক্রামিতদের প্রায় ৭১ শতাংশই কেরল ও মহারাষ্ট্রের। এই দুই রাজ্যে সংক্রমণের হার কমেনি। গত সপ্তাহেও এই দুই রাজ্য থেকেই সর্বাধিক সংক্রমণের খবর মিলেছিল। গত ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেরল ও মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণের হার বেড়েছে বলেই খবর। অন্যদিকে, ওই গত সাতদিনে দেশের বাকি রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের হার প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।

করোনায় সুস্থতার হার বাড়ছে দেশে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার রোগী সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন। দেশে এখন কোভিড জয়ীদের সংখ্যা সাড়ে ১০ কোটির বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, দেশে এখন কোভিড টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে। এ যাবৎ ২০ কোটি ৩৩ লক্ষ করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে দেশে। প্রতিদিন গড়ে দশ লাখের কাছাকাছি কোভিড টেস্ট হচ্ছে। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের বদলে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে। কোভিড টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ে আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করা যাচ্ছে, তাই সংক্রমণের হারও কমছে।

দেশে এখনও অবধি ৬৬ লাখের বেশি করোনার টিকা পেয়েছেন। প্রথম ধাপে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরে এবার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীদের টিকাকরণ চলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হলেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে শুরু করবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More