দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধি কমেছে, ‘আর নম্বর’ একের নিচে, ৮১ হাজার সুস্থ হয়েছেন একদিনে

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছে, করোনায় মৃতদের মধ্যে কোমর্বিডিটির রোগীর সংখ্যাই বেশি। সরকারি পরিসংখ্যাণ মাফিক, অন্তত ১৮ শতাংশ কোভিড রোগীর মৃত্যুর জন্য কোমর্বিডিটি দায়ী।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমেছে দেশে। গত দু’মাসে দৈনিক সংক্রমণ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেখানে এখন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। দু’মাসে সবচেয়ে কম নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছিল মঙ্গলবার, ৫৫ হাজারের কাছাকাছি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে দেখা গেল, নতুন সংক্রমণ কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৬৮ হাজার। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার আগের থেকে অনেকটাই কমেছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।

দেশে এখন কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৭৩ লাখ ছাড়িয়েছে। কোভিড অ্যাকটিভ কেস সে তুলনায় কম। অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৮ লাখের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ালেও করোনায় মৃত্যুহার কমেছে। কেন্দ্রের হিসেবে ১.৫২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছে, করোনায় মৃতদের মধ্যে কোমর্বিডিটির রোগীর সংখ্যাই বেশি। সরকারি পরিসংখ্যাণ মাফিক, অন্তত ১৮ শতাংশ কোভিড রোগীর মৃত্যুর জন্য কোমর্বিডিটি দায়ী। ১.২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র ভাইরাস সংক্রমণের কারণে। হাসপাতাল-নার্সিংহোম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোভিডে মৃতদের বেশিরভাগই ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হার্টের রোগ, ক্রনিক কিডনির রোগ, লিভার ফেলিওর বা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।

কেন্দ্রের হিসেব আরও বলছে, কোভিড সংক্রমণে হাই-রিস্ক গ্রুপে রয়েছেন ৪৪-৬০ বছরের রোগীরা। দেখা গেছে, এই বয়সীদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের শিকার ৩০-৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, ২৬ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ। ষাটের বেশি বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হার প্রায় ৫৩ শতাংশের কাছাকাছি, তবে বেশিরভাগই কোমর্বিডিটির কারণে।

আরও একটা ভাল খবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশে এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা আর নম্বর আরও কমেছে। গত তিন সপ্তাহ ধরেই আর নম্বর ছিল একের নিচে। গত সপ্তাহে আর নম্বর নেমেছিল ০.৯৫ পয়েন্টে। এ সপ্তাহে দেখা গেছে আর নম্বর আরও কিছুটা কমে পৌঁছেছে ০.৯২ পয়েন্টে। করোনা সংক্রমণের শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্রেও আর নম্বর ০.৯৪ থেকে ০.৮৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। কর্নাটকেও ১.০৬ থেকে আর নম্বর কমেছে ০.৮৯ পয়েন্টে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর নম্বর কমলে করোনা ট্রান্সমিশন রেট তথা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার কমবে। অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি, একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হারও কমবে। ট্রান্সমিশন রেটও একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে চলে আসবে। যে মুহূর্তে দেশের কোভিড ট্রান্সমিশন রেট স্থিতিশীল হবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিও কমতে থাকবে।

দেশে কোভিড টেস্ট আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছে, করোনা রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাই চিকিৎসাও তাড়াতাড়ি হচ্ছে, সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যাও বাড়ছে। ৬৩ লাখের বেশি করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন দেশে। একদিন রোগ সারিয়েছেন ৮২ লাখের কাছাকাছি। করোনায় সুস্থতার হার ৮৭.৩৬ শতাংশ। গতকাল অবধি দেশে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ১২ হাজার। একদিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখের বেশি। প্রতিদিন ১৫ লাখ কোভিড টেস্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More