টানা তিন দিন ৬০ হাজারের নিচে দৈনিক সংক্রমণ, আরও কমল অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা

দেশে এখন কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৭৭ লাখ। ভাল দিক হল করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা আরও কমেছে। আট লাখের নিচে নেমেছিল দিনকয়েক আগেই। আজ সকালে কেন্দ্রের বুলেটিনে দেখা গেল, করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নেমেছে ৭ লাখে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৈনিক সংক্রমণের কার্ভ ক্রমেই কমতির দিকে। গত মঙ্গলবার ৫২ হাজারে মেনেছিল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। তারপর টানা তিন দিন ধরে দৈনিক সংক্রমণ ৬০ হাজারের নিচেই রয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সকালের বুলেটিনে দেখা গেল নতুন সংক্রমণ ৫৬ হাজারের কাছাকাছি।

দেশে এখন কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৭৭ লাখ। ভাল দিক হল করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা আরও কমেছে। আট লাখের নিচে নেমেছিল দিনকয়েক আগেই। আজ সকালে কেন্দ্রের বুলেটিনে দেখা গেল, করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নেমেছে ৭ লাখে। অ্যাকটিভ কেস ৯.২৯ শতাংশ। দশ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়া মানে সংক্রমণ ছড়ানোর হার ধীরে ধীরে কমবে বলেই আশা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

কেন্দ্রের হিসেব বলছে, গত পাঁচ সপ্তাহে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার কমেছে ৬.১ শতাংশ। কোভিড পজিটিভিটি বা  করোনা পজিটিভ কেসের হার বার করা হয়, যতগুলি কোভিড টেস্ট করা হয়েছে তার মধ্যে কতজন রোগীর শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে অর্থাৎ কতজন রোগী কোভিড পজিটিভ সেই সংখ্যা হিসেব করে। মে মাসের শুরুতে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা যত ছিল, মে-র শেষ থেকে জুনের শুরু অবধি সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। রিপোর্ট বলছে, গত ৬ মে করোনা পজিটিভ কেসের হার ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। ১৩ মে সেটাই হয় ১১.৬%। ২১ মে-র পর থেকে কোভিড সংক্রমণ আরও বেশি জনের মধ্যে ধরা পড়ে। করোনা পজিটিভ কেসের হার পৌঁছয় ১৬.৫ শতাংশে। সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফের সংক্রমণের হার কমতে শুরু করে। এখন দশ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

করোনায় মৃত্যুহার ১.৫১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৭০২ জনের। দেশে এখন করোনায় মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে তবে কোভিড ডেথ রেট দুই শতাংশের কম। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমর্বিডিটির কারণে মৃতের সংখ্যা বেশি। করোনায় মৃতদের বেশিরভাগই ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হার্টের রোগ, ক্রনিক কিডনি বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

সুস্থতার হার বেড়েছে দেশে। একদিনে করোনা জয় করেছেন ৭৯ হাজারের বেশি রোগী। দেশে কোভিড সারিয়ে ওঠাদের সংখ্যা ৬৮ লাখ ছাড়িয়েছে। করোনায় সুস্থতার হার ৮৯.২০ শতাংশ।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানাচ্ছে, কোভিড টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে দেশে। আজ অবধি ৯ কোটি ৮৬ লাখ করোনা পরীক্ষা হয়েছে দেশজুড়ে। গতকালই ১৪ লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। কোভিড টেস্ট, কনট্যাক্ট ট্রেসিং, কনটেইনমেন্ট ও ট্রিটমেন্টে সংক্রমণ কমার আশা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। সেরাম ইনস্টিটিউট, ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলার টিকার ট্রায়াল চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন বলেছেন, আগামী বছরের গোড়ায় ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিতরণ ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণের কর্মসূচী তৈরি হচ্ছে। রাজ্যগুলিকে এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়েছে। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। করোনার টিকা কারা আগে পাবেন সেই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More