দৈনিক সংক্রমণ ৪০ হাজারের নিচে নামছেই না, গত পাঁচদিনে কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও বেশি

কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা নিয়েও নানা খবর শোনা যাচ্ছে। দেশে এখন করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৯২ লাখ। অথচ বিভিন্ন রাজ্যে করোনা টেস্ট এবং কোভিড রোগীর সংখ্যা বিচার করে চমকে দেওয়ার মতো রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের কার্ভ কখনও কমছে আবার কখনও এক ধাক্কায় বেড়ে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে দৈনিক আক্রান্ত ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ৩০ হাজারের নিচে নেমেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ ধরে কোভিড কার্ভ ফের বেড়েছে। দৈনিক সংক্রমণ ৪০-৫০ হাজারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। দেশের কয়েকটি রাজ্যে সংক্রমণের হার খুব বেশি, যার প্রভাব পড়েছে জাতীয় গড়েও। কেন্দ্রের বুলেটিনে আজকের হিসেবে নতুন সংক্রমণ ৪৪ হাজারের কাছাকাছি।

কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা নিয়েও নানা খবর শোনা যাচ্ছে। দেশে এখন করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৯২ লাখ। অথচ বিভিন্ন রাজ্যে করোনা টেস্ট এবং কোভিড রোগীর সংখ্যা বিচার করে চমকে দেওয়ার মতো রিপোর্ট পাওয়া গেছে। জানা যাচ্ছে, করোনা পরীক্ষার জন্য রিয়েল টাইম-আরটি পিসিআর টেস্ট সব রাজ্যে সঠিকভাবে হয়নি। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টেই দ্রুত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সে কারণে বেশিরভাগ রোগীকে চিহ্নিত করাই যায়নি। সূত্র বলছে, দেশে অন্তত ৩৮ লাখ কোভিড রোগীর হিসেব ধরাই হয়নি। যদি পরিসংখ্যাণের খাতায় ফেলা যায় তাহলে মোট রোগীর সংখ্যা কোটি ছাড়াবে।

চিন্তার আরও একটা কারণ আছে। করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ফের বেড়েছে। অক্টোবরের শুরু থেকে আচমকাই কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হার কমতে শুরু করেছিল। উৎসবের মরসুমে যেখানে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে যাবে মনে করা হয়েছিল সেখানে অ্যাকটিভ কেস পাঁচ লাখেই স্থিতিশীল হয়। গত কয়েক সপ্তাহে অ্যাকটিভ কেসের হার পাঁচ শতাংশের নিচেও নেমে গিয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে দেখা যায় অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ফের বেড়েছে।

করোনায় মৃত্যু পাঁচশোর নিচে নেমেছে এক সপ্তাহ ধরেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪৮১ জনের। সংক্রমণে মৃত্যুহার ১.৪৬ শতাংশ। এই মৃত্যুহার এক শতাংশের নিচে নামানোই লক্ষ্য কেন্দ্রের।

করোনায় সুস্থতার হার প্রায় ৯৪ শতাংশ। গতকালের থেকে খুব একটা বাড়েনি। আজকের হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা সুস্থ হয়ে ওঠাদের থেকে বেশি। একদিনে সংক্রমণ সারিয়েছেন ৩৭ হাজার কোভিড রোগী।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ বলছে, দেশে ১৩ কোটির বেশি করোনা পরীক্ষা হয়েছে। গতকালই নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখের বেশি। তবে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কমেছে বলেই জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা ৬০ শতাংশে নেমেছে, তুলনায় র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা বেশি। যে কারণেই নাকি কোভিড রোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। বিহার, তেলঙ্গানা, গুজরাট, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশে আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কম। তবে মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান, তামিলনাড়ুতে পিসিআর টেস্ট এখনও ৯০-১০০ শতাংশের কাছাকাছি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More