অগস্টেই করোনা আক্রান্ত সাত কোটির বেশি! সেরো সার্ভের রিপোর্ট চমকে দেওয়ার মতো

আইসিএমআর বলেছে, দেশের জনসংখ্যার প্রায় সাত শতাংশের শরীরেই করোনার অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। সমীক্ষা বলছে, প্রতি দশ জনের মধ্যে ৯ জনই উপসর্গহীন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে সেরো সার্ভে বা অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপোর্ট চমকে দেওয়ার মতো। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)তথ্য বলছে, অগস্ট মাসে দেশে করোনা কার্ভ শীর্ষে উঠেছিল। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে অন্তত ৭ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। বেশিরভাগই অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন।

সেরো সার্ভে হল অ্যান্টিবডি টেস্ট। রক্তের নমুনা নিয়ে যদি দেখা যায় তার মধ্যে অ্যান্টিবডি আছে তাহলে বুঝতে হবে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল। কারণ ভাইরাস শরীরে ঢুকলেই তার প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। দেশজুড়ে যেহেতু ৭০ শতাংশের বেশি কোভিড রোগীই উপসর্গহীন, তাই ভাইরাস কাদের শরীরে চুপিসাড়ে বাসা বেঁধে রয়েছে সেটা জানার জন্যই দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেরো সার্ভে শুরু করেছিল আইসিএমআর। সেখানেই এই চমকে দেওয়ার মতো রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

আইসিএমআর বলেছে, দেশের জনসংখ্যার প্রায় সাত শতাংশের শরীরেই করোনার অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। সমীক্ষা বলছে, প্রতি দশ জনের মধ্যে ৯ জনই উপসর্গহীন। অর্থাৎ শরীরে ভাইরাস রয়েছে অথচ রোগের লক্ষণ নেই। বেশিরভাগ রোগী বুঝতেই পারেননি তাঁরা কখনও ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন। আবার করোনা হয়ে সেরে গেছে এমন রোগীদেরও চিহ্নিত করা গেছে সেরো সার্ভেতে। রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ দেখে বোঝা গেছে, তাঁরা কখনও না কখনও ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ভাইরাল লোড কম থাকায় জটিল রোগ হয়নি, মৃদু সংক্রমণের পরেই তা সেরে যায়।

সিম্পটোমেটিক বা উপসর্গ আছে এমন রোগীর সংখ্যা কম, তিন শতাংশের কাছাকাছি। বলছে সেরো সার্ভের রিপোর্ট। বেশিরভাগেরই রোগের লক্ষণ বোঝা যায়নি। আইসিএমআর বলছে, উপসর্গহীন রোগীদের থেকেই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। অগস্টের রিপোর্ট বলছে, দশ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রতি ১৫ জনের মধ্যে একজন কোভিড আক্রান্ত হয়েছিল। মে থেকে অগস্টের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হার প্রায় দশ গুণ বেড়ে গিয়েছিল।

বড় বড় শহরের বস্তি এলাকাগুলিতে সংক্রমণের হার বেশি, জানাচ্ছে সেরো সার্ভের রিপোর্ট। গ্রাম বা প্রত্যন্ত এলাকাগুলির থেকে শহরেই উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের বেশি চিহ্নিত করা গিযেছে। মুম্বইয়ের বস্তি এলাকায় প্রায় ৫৭.৪ শতাংশের মধ্যে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। তুলনায় অন্যান্য এলাকায় কম ১৭ শতাংশের কাছাকাছি।

দেশে অধিকাংশ করোনা রোগীকে চিহ্নিত করা যায়নি এমন রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল নানা সূত্র থেকে। বলা হয়েছিল, কোভিড টেস্ট ঠিকমতো না হওয়ায় ৩৮ লাখের বেশি রোগীকে শনাক্ত করাই যায়নি। বিহার, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্যে লাখের বেশি কোভিড রোগীকে শনাক্ত করাই যায়নি। সংখ্যাগুলোও চমকে দেওয়ার মতো। যেমন মহারাষ্ট্রে ৬ লাখের বেশি করোনা রোগীকে হিসেবেই ধরা হয়নি, কারণ এদের রোগ চিহ্নিত করা যায়নি। খাতায়কলমে হিসেব রয়েছে কোভিড পজিটিভ রোগী ১৭ লাখের বেশি, অথচ আসল সংখ্যা ২৪ লাখ ছাড়িয়েছে। দিল্লিতে চার লাখের বেশি কোভিড রোগীর হিসেব নেই, তেলঙ্গানা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশে তিন লাখ, পশ্চিমবঙ্গে এক লাখের কিছু বেশি, কেরলে প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি কোভিড রোগী হিসেবের খাতার বাইরে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More