শক্তিশালী ভারতীয় সেনাকে টক্কর দিতে জঙ্গি ঢুকিয়ে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান: সেনাপ্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গিদের হাতিয়ার করে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান, নাশকতা ছড়িয়ে দেশের শান্তিভঙ্গ করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এমনটাই বললেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। দেশ যুদ্ধ চায় না, সন্ত্রাসের বিনাশ চায়। সেনাপ্রধানের কথায়, সরাসরি সংঘাতের পথে আসছে না পাকিস্তান। বরং ক্রমশই শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারতীয় সেনার সঙ্গে টক্কর দিতে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে তারা।

মঙ্গলবার ডিফেন্স কমিউনিকেশনের ইভেন্টে সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘ভারতের মোকাবিলা করার জন্য পাকিস্তানের অন্যতম অস্ত্র এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। তাদের ব্যবহার করেই ভারতীয় বাহিনীকে সীমান্তে ব্যস্ত রাখছে পাকিস্তান। আমরা এখন যুদ্ধ বা শান্তি কোনও পরিস্থিতিতেই নেই। ক্রমাগত পাকিস্তানের তৈরি করা এই ছায়াযুদ্ধের জবাব দিতে হচ্ছে।’’

উপত্যকায় সন্ত্রাস দমনের জন্য ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রক। সেনাপ্রধান রাওয়াত জানিয়েছেন, নাশকতা রুখতে প্রতিরক্ষার তিনটি বাহিনীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল অপারেশন ডিভিশন।’ সন্ত্রাসের মোকাবিলা একযোগে করবে প্যারা স্পেশাল ফোর্স, ভারতের মেরিন কম্যান্ডো ফোর্স (মার্কোস) এবং বায়ুসেনার নিজস্ব এলিট ফোর্স গরুড়।

ফের জঙ্গি জমায়েত শুরু হয়েছে পাকিস্তানের বালাকোটে। সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানিয়েছিলেন, বালাকোটে ফের নিজেদের প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো সাজিয়ে তুলছে জইশ, লস্কররা। শুধু তাই নয়, কাশ্মীর-সহ গোটা দেশে অশান্তি ছড়াতে অন্তত শ’পাঁচেক জঙ্গি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে ভারতে ঢোকার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তাঁর দাবি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, একাধিক সূত্রে বালাকোট সম্পর্কে তাদের কাছে তথ্য এসেছে। উপগ্রহ চিত্র থেকে দেখা গিয়েছে, বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া ওই প্রশিক্ষণ শিবিরকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হামলার পরে সেখানে মানুষের গতিবিধি একেবারে কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে সন্দেহজনক গতিবিধি হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। বেড়েছে গাড়ির আনাগোনা।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, বালাকোটের সক্রিয়তা যেমন বেড়েছে তেমনি দেশে অনুপ্রবেশের জন্য নানারকম পন্থা বেছে নিচ্ছে জঙ্গিরা। এনআইএ জানিয়েছে, কয়েক দিন আগেই নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশে ঢুকেছে সাত পাকিস্তানি জঙ্গি। তারা জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। উপত্যকায় একজোট হয়ে নাশকতার ছক কষছে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার মতো পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। জঙ্গি ঘাঁটি উপড়ে ফেলতেই প্রতিরক্ষার তিন বাহিনীকে একজোট করা হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার গরুড় কম্যান্ডোরা দক্ষতায়, আধুনিকতায় এবং ক্ষিপ্রতায় অতুলনীয়। গরুড় কম্যান্ডোদের অবিশ্বাস্য প্রতি আক্রমণের জেরেই বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ঢুকেও ফাইটার জেট বা অ্যাটাক হেলিকপ্টারের কোনও কখনও ক্ষতি করতে পারেনি জঙ্গিরা। বায়ুসেনার বিভিন্ন ঘাঁটি রক্ষা করার মূল দায়িত্ব গরুড় কম্যান্ডোদের। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গরুড় বাহিনীকে। জল এবং স্থলে যে কোনও অবস্থায় অপারেশন চালাতে সক্ষম  মেরিন কম্যান্ডো ফোর্স। মার্কোস বাহিনীর ব্যবহার করে পিস্তল অটো ৯ এমএম এবং সেমি অটোমেটিক পিস্তল, বেরেট্টা ৯২ এফসি পিস্তল, এসএএফ কার্বাইন ২ এ-ওয়ান বন্দুক, একে ১০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল-এর মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More