বেলাগাম করোনা, রেকর্ড ছাপিয়ে একদিনেই আক্রান্ত ১ লাখ ২৬ হাজার, সক্রিয় রোগী ৯ লাখ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা অতি ভয়ানক হয়ে উঠছে দেশে।

রেকর্ড ভাঙছে প্রায় প্রতিদিনই। গতকালই দৈনিক আক্রান্ত ১ লাখ ১৫ হাজারে উঠেছিল, গত ২৪ ঘণ্টার রেকর্ডে দেখা গেল একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দৈনিক সংক্রমণ শুধু নয়, করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। অ্যাকটিভ কেসের হার ৭ শতাংশ, আক্রান্ত ৯ লাখের বেশি। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও হয়নি দেশে।

করোনায় মৃত্যুহার তেমনভাবে বাড়েনি, এটাই স্বস্তি স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। তবে সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। অথচ এক মাস আগেই দৈনিক মৃত্যু দুশোর নীচে নেমে গিয়েছিল। তবে মৃত্যুহার এখনও ২ শতাংশের নীচেই আছে।

করোনার এই লাগামছাড়া দশা মহারাষ্ট্র দিয়ে শুরু হয়েছিল। নতুন সংক্রমণ ৩০ হাজার থেকে বাড়তে বাড়তে ৫০ হাজারের চৌকাঠে এসে হাজির হয়েছিল দুদিন আগেই। এখন ফের তা শীর্ষে উঠে গেছে। মহারাষ্ট্রে একদিনেই আক্রান্ত ৬০ হাজারের কাছাকাছি। মুম্বইতে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার, পুণেতে ১১ হাজার, মাথায় হাত পড়ে গেছে রাজ্য সরকারের। অন্যদিকে, দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, পাঞ্জাব, ছত্তীসগড়, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ুতেও করোনা গ্রাফ গত দু’মাস থেকে সপ্তমে চড়ে আছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে নতুন করে মোট আক্রান্তের ৮১.৪২ শতাংশই এসেছে এই ৮ রাজ্য থেকে।

করোনা সংক্রমণের এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দেখে মহারাষ্ট্র সহ ছয় রাজ্যে কেন্দ্রের অভিজ্ঞ ও সংক্রমণ বিশেষজ্ঞদের টিম পাটিয়েছে সরকার। এখনও অবধি রাজ্যগুলিতে মোট ৫০টি দল গিয়ে পৌঁছেছে। আইসোলেশনের ব্যবস্থা, কনটেইনমেন্ট জ়োন, ট্র্যাকিং, কনট্যাক্ট ট্রেসিং, কোভিড টেস্টের সব বন্দোবস্ত খতিয়ে দেখবে এই বিশেষজ্ঞের দল। কোন রাজ্যে সংক্রমণের পরিস্থিতি রোখার খামতি রয়েছে, কোথায় করোনা পরীক্ষা কম হচ্ছে, রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট সব জায়গায় হচ্ছে কিনা, জন সমাগমের জায়গাগুলিতে লোকজন কোভিড বিধি মানছেন কিনা, তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখবে এই স্পেশাল টিম। জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ৩০টি জেলা, ছত্তীসগড়ের ১১টি জেলায় স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের দল পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় কনটেইনমেন্ট জ়োনের সংখ্যা দু’হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার করা হয়েছে। দক্ষিণ দিল্লিতে করোনা গ্রাফ বেড়ে চলেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More