কোভিডের তৃতীয় ঢেউ এল বলে, ওসব নাইট কার্ফু, সপ্তাহ শেষের লকডাউন করে কিচ্ছু হবে না: এইমস প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করে, সপ্তাহের শেষে দোকানবাজার, শপিং মল তালাবন্ধ করে রেখে করোনা মহামারী ঠেকানো যাবে না, এমনটাই বক্তব্য দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস) প্রধান ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়ার। তিনি বলেছেন, সংক্রমণ যে পর্যায়ে বাড়ছে তাতে এই শৃঙ্খল ভাঙতে হলে দরকার কড়া কোভিড বিধির। সাময়িকভাবে লকডাউনে তা সম্ভব নয়। গুলেরিয়া বলছেন, গত বছর মার্চ মাসের মতো আরও একটা কড়া লকডাউন দরকার, অন্তত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে, তাহলেই আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমানো যাবে।

এইমস প্রধানের বক্তব্য, দেশে লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই মেলামেশা করেছেন মানুষজন। ভাইরাসও তাই একটু একটু করে তার ডালপালা ছড়িয়েছে। একসময় প্রবল আকারে ঝাপটা দিয়েছে। হুড়হুড়িয়ে বেড়েছে কোভিড পজিটিভিটি রেট, রাজ্যে রাজ্যে সংক্রমণের হার বেড়েছে তড়তড়িয়ে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের নতুন যে শৃঙ্খল তৈরি হয়েছে তাকে এত সহজে ভাঙা যাবে না। তার জন্য মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। মেলামেশা, ভিড়-জমায়েত একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। গুলেরিয়া বলছেন, যত বেশি মানুষ একে অপরের সংস্পর্শে আসবে ততটাই দ্রুত হারে ভাইরাস তারা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে চলবে। নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্টও মাথা চাড়া দেবে। আর যার ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে করোনার ‘থার্ড ওয়েভ’।

গুলেরিয়ার মতে, কড়া লকডাউন মানে মাসের পর মাস সবকিছু তালাবন্ধ করে দেওয়া নয়। অন্তত কয়েক সপ্তাহের জন্য যদি মানুষের মেলামেশা বন্ধ করা যায়, তাহলে সংক্রমণের এত দ্রুত বাড়বৃদ্ধি কিছুটা হলেও আটকানো যাবে। সেই সঙ্গেই এইমস প্রধান বলছেন, লকডাউনের এই পর্যায়ে যাতে অর্থনীতির ক্ষথি বিপুল হারে না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে, দিনমজুর, শ্রমিক, গরিব মানুষদের যাতে খাওয়াপড়ার অভাব না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকেই। লকডাউনের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবাও চালিয়ে যেতে হবে সমান তালে। অক্সিজেন জোগান নিশ্চিত করতে হবে। পিপিই কিট, ওষুধ-সহ অন্যান্য সামগ্রীর সরবরাহও রাখতে হবে স্বাভাবিক। সব দিক খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের চক্র ভাঙতে হলে তিনটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে, বলেছেন গুলেরিয়া। সেগুলি কী কী—প্রথমত, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নত করা, দ্বিতীয়ত, জেট গতিতে বেড়ে চলা করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমানো, তৃতীয়ত, ভ্যাকসিনের সঠিক বিতরণ ও টিকাকরণে গতি। গুলেরিয়া বলছেন, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো দেখলেই শুধু চলবে না, ভাইরাস পজিটিভ রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনাও দরকার। ভাইরাস এখন যে হারে তার রূপ বদলে চলেছে তাতে আরও বেশি ছোঁয়াচে বা সুপার-স্প্রেডার হয়ে উঠেছে। বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতে পারছে। ভাইরাস তার নিজের একটা শৃঙ্খল তৈরি করে ফেলেছে যার গোড়াটা কেটে দেওয়া দরকার। তা না হলে ভাইরাসের মিউটেশন বা জিনগত বদল হতেই থাকবে এবং খুব তাড়াতাড়ি কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে দেশে। গুলেরিয়া মনে করিয়েছেন, ১৯১৮ সালের মহামারীতে দেখা গিয়েছিল, প্রথম ধাক্কার থেকে দ্বিতীয় ধাক্কা আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়েছিল। করোনা অতিমহামারীর ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রথম ঢেউয়ের থেকে দ্বিতীয় ঢেউ আরও সাঙ্ঘাতিক, এর পরে যদি তৃতীয় ঢেউও আসে তাহলে তা সামলানো এক কথায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More