উত্তর প্যাঙ্গংয়ে চক্কর কাটছে ভারতের সুখোই-মিগ, লাল ফৌজের পাল্টা এয়ার ডিফেন্স নিয়ে তৈরি বায়ুসেনা

প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তর তীরের কোল ঘেঁষেই রয়েছে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪। এই পাহাড়ি খাঁজ এখন ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণে। এক সময় ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর মাঝের অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা করেছিল লাল ফৌজ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ প্যাঙ্গংয়ের উঁচু পাহাড়ি এলাকা হাতছাড়া হয়েছে চিনের লাল সেনার। এবার ফের তাদের চোখ ঘুরেছে প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তর সীমায়। মঙ্গলবার রাত থেকেই যুদ্ধট্যাঙ্ক নিয়ে উত্তর প্যাঙ্গংয়ের দিকে এগোচ্ছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। তাদের নজর হ্রদ সংলগ্ন পাহাড়ি খাঁজ বা ফিঙ্গার এলাকা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ভারতীয় বাহিনী আগেই আঁচ করেছিল দক্ষিণ প্যাঙ্গংয়ে নাক গলাতে না পেরে এবার উত্তর প্যাঙ্গংয়ে টার্গেট করতে পারে চিনের বাহিনী। তাই আগে থেকেই উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধবিমান। দক্ষিণ ও উত্তর প্যাঙ্গং হ্রদের দুই সীমাতেই ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একেবারে তৈরি হয়েই আছে।

প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তর তীরের কোল ঘেঁষেই রয়েছে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪। এই পাহাড়ি খাঁজ এখন ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণে। এক সময় ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর মাঝের অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা করেছিল লাল ফৌজ। মান্দারিন ভাষায় বড় বড় করে চিন লিখে জাতীয় পতাকার ছবিও এঁকে রেখেছিল তারা। তাই ভারতীয় বাহিনী জানত দক্ষিণ প্যাঙ্গং হাতছাড়া হলে ফের তাদের নিশানা উত্তরের দিকেই ঘুরতে পারে। গত ২৯-৩০ অগস্ট চিনের বাহিনী যখন কালা টপের দখল নিতে না পেরে ফিরে গিয়েছিল, তার পর পরই উত্তর প্যাঙ্গংয়ের ৪ নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্টে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছিল ভারত। এই মূহূর্তে ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ পাওয়া ভারতের দুর্ধর্ষ মাউন্টেন ফোর্স স্পেশাল ফ্রন্টিয়ারের কম্যান্ডোরা।

আরও পড়ুন: ভারতের কম্যান্ডোদের রণসাজ দেখে পিঠটান দিয়েছিল হাজার লাল সেনা, দক্ষিণ প্যাঙ্গংয়ে চিনকে ঠেকাতে কৌশল ঠিক ছিল অনেক আগে থেকেই

PLA pulls back boats from Pangong Tso

তবে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও টানাপড়েন চলছে। ভারতীয় সেনা খবর দিয়েছে, ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ এর কাছেই নতুন করে সেনা মোতায়েন করছে চিন। সেখানে তাদের সামরিক অস্ত্রশস্ত্রও জড়ো করছে। হাল্কা যুদ্ধট্যাঙ্ক বসাচ্ছে লাল সেনা। তাই চিনকে ঠেকাতে পার্বত্য বাহিনীর পাশাপাশি আকাশসীমাকেও সুরক্ষিত রাখছে ভারত। প্রয়োজনে আকাশ থেকে ভূমিতে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতিও সেরে রাখছে বায়ুসেনা।

আরও পড়ুন: লাদাখি কুকুরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ভারতীয় সেনা, লাল ফৌজের অবস্থান বলবে, ক্যাম্প পাহারাও দেবে

Indian-China Begin Disengagement In Eastern Ladakh: Here's Everything We Know So Far

লেহ-র কাছেই ভারতের বায়ুসেনা ঘাঁটি আছে। সেখান থেকে সুখোই-৩০এমকেআই, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই উড়ে এসেছে প্যাঙ্গং রেঞ্জে। হ্রদ পেরিয়ে বিপরীতে চুসুল রেজিমেন্টে টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক ও টি-৭২ যুদ্ধট্যাঙ্ক তৈরি হয়েই আছে। টি-৯০ ‘ভীষ্ম’ ট্যাঙ্কের  ২এ৪৬এম ১২৫ মিলিমিটার ট্যাঙ্ক-গান থেকে ৬০ সেকেন্ডে ৮টি সেল ছোড়া যায়।  এর পাল্লা ১০০ মিটার থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত।  কাজেই চিনের বাহিনী বাড়াবাড়ি করলে তাদের সামরিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে বেশি সময় লাগবে না।

IAF deploys Apache attack helicopters and Chinooks in Ladakh, increases combat air patrols

চিন ইতিমধ্যেই ফের অভিযোগ তুলেছে মধ্যরাতে নাকি ভারতের বাহিনী গোলাগুলি চালিয়েছে। গড পাও পার্বত্য এলাকায় ভারতীয় বাহিনী আগ্রাসন দেখিয়েছে বলেই দাবি তাদের। পিএলএ ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের মুখপাত্র কর্নেল ঝ্যাং শুইলির দাবি, চিন নাকি কোনও তৎপরতা দেখায়নি। ভারতের বাহিনীকে ঠেকাতেই নাকি সক্রিয়তা দেখা গেছে লাল সেনার মধ্যে। এদিকে ভারতের দাবি, চিনের সেনা নতুন করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। আসলে তাদের টার্গেট ছিল ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ এর দখল নেওয়া। ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাঘাতে সেটা পুরোপুরি সম্ভব না হলেও পাহাড়ের পাদদেশে সেনা মোতায়েন করছে চিন।

ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে, ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় গালওয়ান উপত্যকায় যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করা ও রণকৌশলের দিকে থেকে চিনা বাহিনীর থেকে অনেকটাই এগিয়ে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা। কারণ চিনা বাহিনীকে বহুদূর থেকে সামরিক সরঞ্জাম বয়ে আনতে হচ্ছে। অথচ পূর্ব লাদাখের কাছেই পঞ্জাব, হরিয়ানা, কাশ্মীর, লেহ-সহ ভারতের একাধিক এয়ারবেস রয়েছে যেথান থেকে সামরিক সরঞ্জাম উড়িয়ে আনা অনেক বেশি সহজ। ভারতের আকাশসীমাকে সবরকমভাবে সুরক্ষিত রাখতে কমব্যাট ফাইটার জেট নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। টহল দিচ্ছে সুখোই-৩০, মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেট ও মিগ-২৯ ফাইটার জেটের নয়া ভার্সন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ডাবল ইঞ্জিন মাল্টিরোল এয়ার সুপিরিয়রিটি ফাইটার জেটগুলির অন্যতম হল এই সুখোই। এই ফাইটার জেট থেকে আবার ব্রাহ্মস মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তিও রয়েছে ভারতের। ফ্রান্স থেকে কেনা রাফাল ফাইটার জেট আর কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসবে লাদাখ সীমান্তে। বায়ুসেনা জানাচ্ছে, রাফাল পৌঁছনোর আগে ভারতের তৈরি দুটি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারকে সীমান্তে পাঠানো হয়েছে।

India to buy 2 Mirage 2000 aircraft from France virtually free - Defense News

শক্তিশালী অ্যাটাক হেলিকপ্টার অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই, সিএইচ-৪৭ এফ চিনুক মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টারও নামিয়েছে বায়ুসেনা। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কমব্যাট এয়ার পেট্রলিং-এর জন্য নামানো হয়েছে চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, আ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার। রাতের বেলা পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেই জন্য অ্যাপাচে ও চিনুক কপ্টারকে কাজে লাগানো হয়েছে। চুসুল এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে অ্যাপাচে, অন্যদিকে দৌলত বেগ ওল্ডিতে রাতের বেলা চক্কর কাটছে চিনুক। চিনুকের সঙ্গে চিনা সেনার গতিবিধির উপর নজর রাখছে অ্যাপাচে কপ্টার। এএইচ অ্যাপাচে-৬৪ কপ্টারকে বলা হয় বোয়িং অ্যাপাচে অ্যাটাক কপ্টার। যুদ্ধাস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে পারে আবার নিশানায় আঘাতও করতে পারে।

তাছাড়া সীমান্তে টহল দিচ্ছে ইজরায়েলি সশস্ত্র হেরন ড্রোন। ‘আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল’ (ইউএভি) হেরন টিপি (Eitan) ড্রোনের প্রতিটিতেই অস্ত্র ভরার ব্যবস্থা আছে। দূরপাল্লার এই ড্রোন দিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে অনায়াসেই টার্গেট করা যাবে। পাশাপাশি, এর বিশেষ ক্যামেরা যে কোনও আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে যে কোনও সময় শত্রু ঘাঁটির ছবি তুলে আনতে পারবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More