ভোটের বাজারে করোনার রেকর্ড ভাঙল, ৭২ হাজার আক্রান্ত একদিনে, ‘ব্রিটেনের মতোই দশা’: এইমস প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সংক্রমণের বন্যা। লাগাতার ঝাপটা মেরে যাচ্ছে।

কুড়ি সালের অক্টোবরের পরে ফের করোনার গ্রাফ নিয়ন্ত্রণের সব সীমা ছাড়িয়ে গেল। একদিনেই দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়াল ৭২ হাজার। মহারাষ্ট্রের অবস্থা আরও শোচনীয়। দৈনিক সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে ৩৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও থেমে নেই। ১১ হাজারের বেশি করোনা অ্যাকটিভ রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে একদিনে। দেশে ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এখন সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি। একেই সংক্রমণের হার বাড়ছে, তার ওপর অ্যাকটিভ কেসের হারও ঊর্ধ্বমুখী। সব মিলিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

করোনা সংক্রমণে মৃত্যুও বেড়েছে দেশে। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দৈনিক মৃত্যু একশোর নীচে নেমে গিয়েছিল, এখন তাই সাড়ে তিনশো ছাপিয়ে গেছে। তবে মৃত্যুহার ২ শতাংশের নীচেই আছে। মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ ৩৯ হাজারের বেশি। এ যাবৎ একদিনে সর্বোচ্চ। আরও চার রাজ্য কেরল, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে দৈনিক সংক্রমণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সংক্রমণের হারও জাতীয় গড়ের থেকে বেশি।

ভারতের করোনা পরিস্থিতি এখন ব্রিটেনের মতোই বিপজ্জনক, বলেছেন দিল্লির এইমস প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। তাঁর বক্তব্য, করোনার নতুন স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়ার পরে যেভাবে ব্রিটেনে সংক্রমণের পারদ চড়েছিল, দেশের অবস্থাও এখন ঠিক তেমনই। করোনার তিন ভিনদেশী স্ট্রেন ঢুকে পড়েছে দেশে। আক্রান্ত পাঁচশোরও বেশি। ব্রিটেন স্ট্রেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মিউট্যান্ট স্ট্রেন এবং সুপার-স্প্রেডার ব্রাজিলীয় স্ট্রেনের বাড়বাড়ন্ত দেশে। এইমস প্রধান বলছেন, এই তিন বিদেশি স্ট্রেনই দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। তার ওপর মানুষের মেলামেশা, ভোটের বাজারে জমায়েত যেভাবে বাড়ছে তাতে সংক্রমণ আরও বেশিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে। আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কুম্ভমেলা। আজ সেখানে পুণ্যস্নানে নেমেছেন অগণিত মানুষ। কাজেই সংক্রমণ যে আরও ছড়াবে সে আশঙ্কাই করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আজ থেকেই ৪৫ বছর বয়সের বেশি বয়স্কদের সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে দেশে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ঘোষণা করেছিল, এই পর্ব থেকে ৪৫ বছরের বেশি বয়সিদের কোমর্বিডিটির নথি জমা দিতে হবে না। ৪৫ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। কোমর্বিডিটির রোগীরা ছাড়াও টিকার জন্য নাম লেখাতে পারেন সকলে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, দেশে কোভিড সংক্রমণে মৃতদের বেশিরভাগই ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সংক্রমণে মৃত্যুর ৮৮ শতাংশেরই বয়স ৪৫ বছরের বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ বলছেন, এই বয়সী লোকজনের মধ্যে করোনায় মৃত্যুর হার ২.৮৫ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে সংক্রমণে মৃত্যুর জাতীয় গড় ১.৩৭ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, দেশে ক্রনিক অসুখে ভোগা রোগী ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি। হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, লিভার-কিডনির রোগ, ক্যানসার ইত্যাদি রোগ থাকলে সংক্রমণ দ্রুত বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। মৃত্যুহারও বাড়ে। এই কোমর্বিডিটি শুধু প্রবীণদের আছে তা নয়, কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা গেছে। তাছাড়া সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কোমর্বিডিটির রোগীরা ছাড়াও মৃত্যুহার বাড়ছে। তাই দেরি না করে ৪৫ বছরের ওপর থেকে সকলকেই করোনার প্রতিষেধক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More