দু’মাস পরে দৈনিক আক্রান্ত এক লাখের নীচে, সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের কম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা দু’মাস পর দেশে দৈনিক আক্রান্ত এক লাখের নীচে নামল। রবিবার নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ১ লাখ ১৪ হাজারের কাছাকাছি। আজ আরও নেমে এক লাখে পৌঁছল। আরও ভাল খবর হল, ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও কমেছে দেশে। কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হার যা নিয়ে এতদিন দুশ্চিন্তা ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রকের, তা পাঁচ শতাংশের নীচে নেমে গেছে। পাশাপাশি, সংক্রমণের হার তথা কোভিড পজিটিভিটি রেটও পাঁচ শতাংশের কম। তাই নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনায় মৃত্যু নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজারের কাছাকাছি। তবে গত সপ্তাহের থেকে দৈনিক মৃত্যুর গ্রাফ নেমেছে। মে মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ অবধি কোভিড কার্ভ চড়চড় করে বেড়েছিল দেশে। দৈনিক মৃত্যুও তিন হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। মৃত্যুহার দেড় শতাংশের নীচেই আছে। তবে এখনও ব্রাজিল ও মেক্সিকোর থেকে ভারতে দৈনিক মৃত্যু বেশি।

কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার ৪.২ শতাংশ। গত সপ্তাহে সংক্রমণের হার ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যতজন রোগীর করোনা পরীক্ষা হচ্ছে তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যতজনের রিপোর্ট পজিটিব আসবে, সেই হিসেবকেই বলা হয় কোভিড পজিটিভিটি রেট। এতদিন দেশের অন্তত ১৩টি রাজ্যে পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার ছিল বেশি অত্যন্ত বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলেছিল, সংক্রমণের হার কমাতে হলে করোনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। দ্রুত বেশিজনের কোভিড টেস্টের জন্য রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। দেশে এখন প্রতিদিনে ১৫ লাখের বেশি কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে।

দেশে জুলাই মাসের পর থেকে কোভিড সংক্রমণ ৯৭ শতাংশ কমে যাবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কানপুর আইআইটির গবেষকরা তাঁদের তৈরি ‘সূত্র’ গাণিতিক মডেলেও একই ব্যাখ্যা করেছেন। করোনা সংক্রমণের হার কী গতিতে বাড়ছে বা কমছে, আক্রান্তের সংখ্যা কত, কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার, এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর (আর-নম্বর), অ্যাকটিভ কেসের হার ইত্যাদি ফ্যাক্টর দেখে এই মডেল তৈরি করা হয়েছে। যেখানে হিসেব করে গবেষকরা বলেছেন, জুন মাস থেকে সংক্রমণের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি সংক্রমণ কমে যাবে। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ থামবে অগস্টের শেষে।

এখনও অবধি দেশে ২৩ কোটি মানুষকে কোভিডের টিকা দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) প্রধান ডক্টর বলরাম ভার্গব জানিয়েছেন, মাঝ জুলাই থেকে ভ্যাকসিনের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হবে। প্রতিদিনে এক কোটি করে টিকার ডোজ দেওয়া যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সকলকে টিকার দুটি করে ডোজ দেওয়াই লক্ষ্য কেন্দ্রের। শিশু ও কমবয়সীদের শরীরে কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। অগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে আরও আট রকম ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে দেশের বাজারে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More